ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

বিতর্কের মুখে ৭০তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

জার্মানির বার্লিনে ঝলমলে আয়োজনে ৭০তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন হয়ে গেল সম্প্রতি। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করলেন স্যামুয়েল ফিনজি । এই প্রথমবারের মতো কোনো জার্মান অভিনেতা এই দায়িত্ব পালন করলেন। পিছনে ছিলেন উৎসবের  নতুন দুই পরিচালক কার্লো চটরিয়ান ও ম্যারিয়েট রিসেনবিক। সামনে তেমন একটা দেখা যায়নি তাঁদের। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক জুরি সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় মঞ্চে এসেছিলেন তাঁরা । গৌরবময় এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭০তম আয়োজনে বড় সড় এক কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ পেলো।

বার্লিন চলচ্চিত্রোৎসব থেকে এই বছর হঠাৎই প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড বাওয়ারের নামের পুরস্কারটি উধাও হয়ে গেল। অবাক হবার মতই বিষয়, আলফ্রেড ছিলেন হিটলারের প্রচার বিভাগের একজন সক্রিয় দায়িত্বশীল কর্মী যা কিনা এত বছর পর জানা হল। সে কারণেই এবার আলফ্রেড বাওয়ারের নামের পুরস্কারটি এবার বাদ দেয়া হয়েছে। অথচ খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক পরিচালকদের মধ্যে এই নামের পুরস্কারটি কে পাননি? আন্দ্রে ওয়াদা থেকে শুরু করে আগ্নিইস্কা হল্যান্ড, কমপক্ষে ৩০ জন পরিচালকের ঝুলিতে গিয়েছে ‘আলফ্রেড বাওয়ার’ পুরস্কার। এখন হিটলারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সেই সম্মান কিছুটা হলেও মলিন হয়ে গেলো। তবে এই খবর প্রকাশ্ পাবার পর অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অবশ্য এখন পর্যন্ত কেউই পুরস্কার ফেরত দেওয়ার কথা বলেননি। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের এক বড় ধরনের কেলেঙ্কারি ফাঁস হল এই ৭০ বছরে এসে।

এছাড়াও উদ্বোধনী ছবি দেখেও প্রায় কেউই খুশি হতে পারেননি। কোন কোন সাংবাদিক তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, বার্লিন উৎসব কি আগামীতেও এমন অবস্থায় চলবে? এই উৎসবকে ঘিরে বাদবাকি ক’টা দিন বেশ শোরগোল এর মধ্য দিয়েই যাবে বলে মনে হচ্ছে।

এবারে প্রধান বিচারকদের পাশাপাশি অন্য বিভাগের বিচারকদেরও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারকমন্ডলীর সভাপতি অভিনেতা জেরমি আয়রন বাদ বাকি ছয় সতীর্থকে সাথে নিয়েই লাল কার্পেটে হেঁটে মঞ্চে উঠেছেন। ভারতীয় সদস্য রিমা দাস জেনারেশন বিভাগের বিচারক হিসেবে আছেন । রেড কার্পেট রিসেপশনে তাঁকে দেখা গেল। উদ্বোধনী ছবি ‘মাই সালিঙ্গার ইয়ার’-এর পরিচালক ফিলিপ ফালারদ্যু ছাড়াও অভিনেত্রী আইসলে ইনগ্রাম, রোজিনা বুছি, নাদিয়া রওনা, জোয়ান আরাকফসহ পুরো ইউনিট তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে প্রেক্ষাগৃহে ঢুকেছেন। অবশ্য এর আগেই হলে ঢুকেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী অধ্যাপক মনিকা গরুত্তর এবং শহরের মেয়র মাইকেল মুলার।

উদ্বোধনী সন্ধ্যায় এবার হলিউডের তেমন কোনো উপস্থিতি ছিল না। অথচ শুধু জার্মানি নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অভিনেতা, পরিচালকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া টরেন্টোর ক্যামেরন বেইলি, ভেনিসের আলবার্তো বারবারা, কান উৎসবের থিয়ের ফামুসহ বিভিন্ন উৎসবের পরিচালকরাও এসেছিলেন। ফতেহ আকিন, হান্‌স পিটের মোল্যান্ড, ড্যানিয়েল ব্রুহল, উইম ওয়ানডআর্সদের মত নামী মানুষজনও ছিলেন। তবে এবারে উৎসবের পুরনো পরিচালক ডিএটার কোসিলিককে কোথাও দেখা যায়নি। ফোরাম বিভাগের প্রতিষ্ঠাতাকেও দেখা যায়নি। বলতে গেলে পুরনো সকলেই নেই।

এবার প্রতিযোগিতা বিভাগে নামী তেমন পরিচালকের ছবি আসেনি। ‘এনকাউন্টার’ নামে নতুন একটি বিভাগ খোলা হয়েছে। আশপাশে জুড়ে কেমন যেন এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এবার দেখার পালা, এই উত্তেজনার শেষ কোথায়। সকলকেই বারবার এক হল থেকে অন্য হলে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে, বেড়েছে হয়রানি। নামী পরিচালকদের এক গুচ্ছ ছবিও জোগাড় করতে পারলেন না দু’জন উৎসব পরিচালক। 

বিদেশী পত্রিকা অবলম্বনে- মো. জাবীহ্‌  উল্লাহ


oranjee