ঢাকা, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

শিরোনাম

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

‘হাসিনার রায়ের দিন বিশৃঙ্খলা হলে ঠেকাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোনো দল নয়’

‘হাসিনার রায়ের দিন বিশৃঙ্খলা হলে ঠেকাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোনো দল নয়’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়ের দিন কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার দায়িত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল পেনিনসুলায় চট্টগ্রাম মেডিকেল ট্রাভেল ফোরামের আয়োজনে ‘মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল সামিট’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেষে মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল সামিটের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন তিনি। দিনব্যাপী এই সামিটে অংশ নিচ্ছে চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল ভ্যালু ট্রাভেল ফ্যাসিলিটেটর, কর্পোরেট প্রতিনিধি ও ট্রাভেল এজেন্সির কর্মকর্তারা।

আমীর খসরু বলেন, বিশৃঙ্খলা তো ঠেকাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই দায়িত্ব তো কোনো রাজনৈতিক দলের না। আমাদের এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আস্তে আস্তে। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের দায়িত্ব হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। আর রায় কোর্ট দেবে। রায় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। এটা ওদের উপর ছেড়ে দেন। আমরা একটা নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ চেয়েছিলাম। আশাকরি একটা নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ বাংলাদেশে স্থাপন করা হয়েছে। আগামী দিনে এটাকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হবে। এই মুহূর্তে আমরা একটা রাজনৈতিক ট্রানজিশনের দিকে যাচ্ছি। নির্বাচনের দিকে, গণতন্ত্রায়নের দিকে যাচ্ছি সেদিকে হচ্ছে আমাদের মূল ফোকাস।

তিনি আরও বলেন, একমাত্র নির্বাচিত সরকার ও সংসদের মাধ্যমেই যাবতীয় পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্য কোনো পন্থায় যা করার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশে আজকে জনগণের সবচেয়ে বড় চাহিদা একটা গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনা। সেটা সম্ভব একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। আজকে সবাই ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। একটি সংসদ গঠন ও একটি সরকার গঠন হবে ভোটের মাধ্যমে, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। এই বিষয়টা বাংলাদেশে গত ১৫-১৬ বছর ধরে অনুপস্থিত। তাই বাংলাদেশের মানুষের এ মুহূর্তে প্রধান চাহিদা একটা উৎসবমুখর নির্বাচন, যেটা বাংলাদেশের মানুষ সবসময় নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন উৎসবের সাথে। বাংলাদেশের মানুষ সেই অপেক্ষায় আছে। অন্য কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমাদের সময় নষ্ট করে লাভ নেই। আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাই। দেশের মানুষের মালিকানা ফিরিয়ে দিই। তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করতে পারি, যারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। এটাই জনগণের চাহিদা।

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনলে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যত সমস্যার কথা এখন বলা হচ্ছে, সব সমাধান হবে। সাংবিধানিক বলেন, অর্থনৈতিক বলেন সব সমাধান আছে শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে। এর বাইরে কোনো সরকার জনগণের মনের কথাও বুঝবে না, জনগণের চাহিদাও বুঝবে না। সুতরাং একটা নির্বাচিত সরকার আসলে, যেসমস্ত সমস্যা পুঞ্জীভূত হয়েছে ইতিমধ্যে এগুলোর সমাধান একমাত্র নির্বাচিত সরকার, সংসদের মাধ্যমে করতে হবে। এর বাইরে করার কোন সুযোগ নাই।

প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ‘পলাতক’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাস্তি হবে কি না, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই সিদ্ধান্ত দেবে ১৭ নভেম্বর। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করে দেয়। রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ ঘিরে বৃহস্পতিবার ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত বোমাবাজি এবং যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।