অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ দেশে ‘হতাশা’ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনরত ইসলামপন্থি আট দলের নেতারা। তাদের অভিযোগ, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ মানেনি, বরং একটি দলের স্বার্থে সিদ্ধান্তে কাটছাঁট করেছে। সবচেয়ে সমালোচিত হয়েছে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা। এই সিদ্ধান্ত সংস্কারকেই ‘গুরুত্বহীন’ করে দেবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে অন্তত তিনজন উপদেষ্টার অপসরণ দাবি করেছেন আট দলের নেতারা।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে মগবাজারের আল–ফালাহ মিলনায়তনে আন্দোলনরত আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন নেতারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন আট দলের শীর্ষ নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জাতি ভেবেছিল সরকার সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় দেখা গেছে, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ গেছে এবং ‘একটি দলের আপত্তি মেনে সরকার বড় ধরনের কম্প্রোমাইজ করেছে। সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসে একটি দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে জনগণের প্রত্যাশা ভঙ্গ হয়েছে। এনসিসি সুপারিশ করেছিল, পরবর্তী সরকার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হবে। সরকার এই বাধ্যবাধকতা ভাষণে উল্লেখ করেনি। ড. তাহেরের অভিযোগ– এটিও বিএনপিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা।
তবে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. তাহের বলেন, অন্তত সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমেই সংস্কার বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে– যা আট দলের দীর্ঘদিনের দাবি। দেশের অধিকাংশ মানুষ চেয়েছে– গণভোট আগে ও আলাদা দিনে হোক। তা না করে একই দিনে ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার সংস্কারের গুরুত্ব কমিয়ে ফেলেছে। একদিনে হলে দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত থাকবে, ফলে গণভোটে ভোট কম পড়বে। পরে এক শ্রেণির লোক বলবে– জনগণ নাকি সংস্কার চায় না। এটিই আসল ফাঁদ। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পরিবর্তন করে গণভোটের আলাদা তারিখ ঘোষণা করতে হবে।