ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

অপহরণের অভিযোগে বাংলা কমিউনিটির নেতা গ্রেপ্তার

অপহরণের অভিযোগে বাংলা কমিউনিটির নেতা গ্রেপ্তার

গ্লোবাল টিভি ছবি

সজীব আহমেদ রিওন, ইতালি: ইতালির রোমে বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ধূমকেতু নামক সংগঠনের কর্ণধার নূরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে আরেক বাংলাদেশিকে অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্টেট পুলিশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আধাসামরিক বাহিনী ১১ এপ্রিল ৫৯ বছর বয়সী বাচ্চুকে তার নিজ বাসা থেকে আটক করে। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা তদন্তের পর রোমের আদালত থেকে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, যা রাজধানীর এন্টি মাফিয়া অধিদপ্তরের পক্ষে কার্যকর করেছে রোম পুলিশ হেডকোয়ার্টার এবং বাংলা টাউন তরপিনাত্তারা এলাকার ক্যারাবিনিয়েরি কম্যান্ডের সদস্যরা।

অভিযোগ, রোমে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিক (নাম প্রকাশ করা হয়নি) বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ক্যারাবিনিয়েরির নিকট সবকিছু খুলে বলার পরপরই শুরু হয় ইনভেস্টিগেশন। প্রশাসনের বরাত দিয়ে ইতালীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে নূরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চু টেলিফোনে দিকনির্দেশনা দিয়ে স্বদেশিকে অপহরণে নেতৃত্ব দেন তার কাছ থেকে ১ লক্ষ ইউরো আদায় করতে। অর্থের বিনিময়ে স্টে পারমিট  তৈরি এবং আর্থিক লোন বাবদ বাচ্চুর কাছে মূলত ৭ থেকে ১০ হাজার ইউরো দেনা ছিলেন ভিক্টিম, যা পরিশোধে বিলম্ব করার অজুহাতে যে কোন মূল্যে ১ লক্ষ ইউরো আদায়ের সিদ্ধান্ত নেন বাচ্চু। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মোতাবেক ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর তরপিনাত্তারা এলাকায় একটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে ফাঁদ পাতেন বাচ্চুর নিজস্ব অপরাধীরা, নৈশভোজে সুকৌশলে ডেকে আনা হয় ভিক্টিম এবং তার স্ত্রী-কন্যাকে।

তদন্ত কার্য পরিচালনার সময় প্রশাসনের কাছে তথ্য আসে, আগে আরও একবার ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভিক্টিমকে অপহরণ করেন বাচ্চু তার অধীনস্থ অপরাধীদের দিয়ে। তখন তাকে বাসা থেকে বের করে অন্যত্র ২ দিন আটকে রেখে ২ লক্ষ ইউরো মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বাচ্চু নিজ হাতে ভিক্টিমের মুখমন্ডলে কিল-ঘুষি মারেন। প্রথম অপহরণের কয়েক দিনের মধ্যে ৭ হাজার ইউরো পরিশোধ করেও বাচ্চুকে খুশি করতে পারেননি ভিক্টিম। ১ লাখ ইউরো আদায় করতে ২০২২ সালের শেষান্তে নতুন করে অপহরণ, যার শেষ রক্ষা করতে পারেননি নূরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চু।