ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

মেহেরপুরে বাঁধাকপির ভেজাল বীজে কাঁদছে কৃষক

মেহেরপুরে বাঁধাকপির ভেজাল বীজে কাঁদছে কৃষক

ছবি: গ্লোবাল টিভি

মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের সবজির গ্রাম খ্যাত চকশ্যামনগর, বাড়াদিসহ কয়েক গ্রামের ৫শ’র বেশী কৃষকের হাসি চোখের জলে রূপ নিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, জেবিটি সিডসের রাজাসান জাতের কপির বীজে ক্ষেতে চারা গজালেও কোন পাতা বাঁধেনি। একেকটি গাছের ৩-৪টি ডগা গজিয়েছে, আবার কোন কোনটির পাতা কোঁকড়ানো। সেচ, সার দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। উপড়ে ফেলা হচ্ছে জমির বাঁধাকপি গাছ।  

বিঘা প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এ কপি চাষে। লাভ তো দূরের কথা, কোন টাকাই তারা ঘরে তুলতে পারছে না। 

এ ঘটনায় সদর উপজেলার বন্দর গ্রামে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিপূরণের দাবিতে শতাধিক চাষী মানববন্ধনও করেন।

চাষী নাজের আলি কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, এই কপি চাষ করতে ৭০ হাজার টাকার সার দোকানে দেনা। একটি টাকাও ফিরে পাবো না। কী খাবো? আমি অনুরোধ করছি আমাদের একটা ব্যবস্থা করার জন্য।

আপর চাষী রমিজ উদ্দিন বলেন, ভেজাল বীজের কারণে কপিতে পাতা বাঁধেনি। এলাকার হাজার হাজা বিঘা জমির কপি নষ্ট হয়ে চাষীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার রঞ্জন কুমার প্রামানিক বলেন, বাঁধা কপির আগাম রাজাসান জাতের পারফমেন্স ভালো না। গত বছর তদন্ত করে আমরা এ জাতের বীজ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে লাইসেন্স বাতিল করেছি। লাইসেন্স বাতিলের পর আল্লহর দান বীজ ভান্ডারের মালিক দয়াল রানা এখানকার দোকান বন্ধ করে ঢাকা সিদ্দিক বাজারে দোকান দিয়ে এ ভেজাল বীজ বিক্রি করছে। ওখান থেকে সে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতি করছে।

কৃষকরা জেবিটি সিডসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি বিভাগের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। সেই সাথে কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।