ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৫

ভোলার সন্তান মানবিক পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ

ভোলার সন্তান মানবিক পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ

ছবি: গ্লোবাল টিভি

মোঃ অনিক আহাম্মদ, ভোলা: ভোলার ছেলে মানবিক পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ, যিনি শৈশব থেকেই মানবিক কাজে সকলের প্রিয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে ফেসবুকের কল্যাণে অনেকেই অসহায়দের সহযোগিতা করেন, সেই অসহায়দের খুঁজে সহযোগিতা করার একজন হলেন জীবন মাহমুদ। তিনি চাকরি করেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে। ফেসবুকের কল্যাণে তিনি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন শত শত মানুষকে। এমনকি করছেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও। 

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টগবী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জীবন মাহমুদ, বাবা শাহাবুদ্দিন দফাদার একজন ব্যবসায়ী এবং মা রাশেদা বেগম গৃহিণী। তিন বোনের একমাত্র ভাই জীবন মাহমুদ।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। বর্তমানে কর্মরত আছেন বরিশালে। পুলিশে যোগদান করার পর রাস্তাঘাটে ডিউটি করতে গিয়ে দুস্থ মানুষের অসহায়ত্বের চিত্র দেখতে পান জীবন মাহমুদ। সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আর কিছু অসহায় মানুষের চিত্র ফেসবুকে পোস্ট করে সাহায্য চেয়েছেন। অনেকেই এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। তখন চিন্তা করলেন মানুষের উপকারে ফেসবুক একটি দারুণ প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মকে মানব কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। সেই থেকে শুরু। 

তিনি বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার পরামর্শ ও রক্তদাতার সন্ধান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক বিষয়গুলোতে সাহায্য করা, আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হয়। এমনকি রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষদের ঘর করে দেয়া হয়েছে আমার বেতন এবং কিছু অনলাইন শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায়। এ পর্যন্ত ভোলা ও বরিশাল জেলায় ৫০টি অসহায় পরিবারকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, ১০০ প্রতিবন্ধীকে হুইল চেয়ার বিতরণ, ৮টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর করে দেয়া, ঘর নির্মাণের টিন বিতরণ, মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদানসহ যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যার সমাধানও দেয়ার চেষ্টা করেন জীবন মাহমুদ। কারো পুলিশি বা ডাক্তারি সেবা এবং আইনি পরামর্শ লাগলে ফেসবুকে পোস্ট করেন আর মুহূর্তে মিলে যায় পরামর্শ। হয়ে যায় সমস্যার সমাধান, এই ফেসবুক আইডিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তের প্রয়োজনের অনুরোধ আসে। এ পর্যন্ত অনেকে মুমূর্ষু রোগীর রক্ত ম্যানেজ করে দিয়েছেন। করোনাকালে প্রায় ২০০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন জীবন মাহমুদ।

এ ছাড়া অর্ধশতাধিক অসহায় রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তারা সুস্থ হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে ছিলেন তিনি। পাঁচজন অসহায় বৃদ্ধ মায়ের দায়িত্ব নিয়ে তাদের পাশে ছিলেন। শীতে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করেন।

জীবন মাহমুদ বলেন, আমার মানবিক কাজে সহযোগিতা করেন প্রবাসী, চিকিৎসক, পুলিশ, আইনজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। আমি সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই। রমজানে তিনি একটি হাফেজি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কুরআন মাজিদ, রিহাল ও পাঞ্জাবি বিতরণ করেছেন।

সিলেটে পাহাড়ি ঢলে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া শতাধিক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তা নিয়ে অসহায় মানুষের মাঝে অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন জীবন মাহমুদ।

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে টিন ও নগদ টাকা ও কম্বল বিতরণ করেছেন জীবন মাহমুদ। তিনি বলেন, আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে। একটি ডিজিটাল এতিমখানা ও মাদরাসা গড়তে চাই, যেখানে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক সব শিক্ষা থাকবে, সব সুযোগ-সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা।
কাউকে যেন রাস্তায় ঘুমাতে না হয়, বয়স্ক ও পথশিশুদের জন্য আবাসস্থল করতে চাই। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে থাকতে চাই, মানুষের জন্যই কাজ করে যেতে চাই। 

এএইচ