ঢাকা, রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৫ মাঘ ১৪২৯ | ৭ রজব ১৪৪৪

বরগুনায় আইনজীবীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা

বরগুনায় আইনজীবীকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা

ছবি: গ্লোবাল টিভি

হিমাদ্রি শেখর কেশব, বরগুনা: বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি ও পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি হুমায়ূন কবির বাচ্চুকে কৌশলে এক নারীকে দিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মারধোরের অভিযোগ উঠেছে। 

রবিবার তার নিখোঁজ হবার খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রবিবার সাড়ে নয়টার দিকে তার স্ত্রী মিনারা নিশি ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম শিকদারসহ এলাকাবাসী থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি দল তাকে তৎপর হয়। রাত আনুমানিক পৌনে দশটা পর্যন্ত তার মুঠোফোনের লোকেশন বরগুনা স্টেডিয়ামের অশেপাশে দেখা যায় বলে নিশ্চিত হন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। 

আইনজীবী বাচ্চুর স্ত্রী মিনারা নিশি জানান, রাত নটার দিকে তার ননদকে ফোন করে তার স্বামী এক লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বলেন। পরে তিনি তার স্বামীকে ফোন দিলে তিনি বলেন , আমাকে বাচাঁতে চাইলে এখনি এক লক্ষ টাকা নিয়ে চেম্বারের কাছে আসো। 

পরে তিনি গিয়ে চেম্বার ও তার মুঠোফোন বন্ধ পান। এমনকি তার ব্যবহৃত ফেসবুকও ডিএক্টিভেট করে ফেলে জিম্মিকারীরা।  ডিবির অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সড়কের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ অনুসন্ধান করতে থাকে গোয়েন্দা পুলিশ। 

রাত সাড়ে দশটার পরে আহত অবস্থায় অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির বাচ্চু বাসায় ফিরে জানান,  চেম্বার বন্ধ করার পরে একজন মুখচেনা লোক জানায় মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কথা আছে বলে তাকে স্টেডিয়াম এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর স্টেডিয়াম এলাকার শিশু পরিবার সংলগ্ন একটি ভবনের চার তলায় নিয়ে হঠাৎ একটি রুমে আটক করে এক নারীকেসহ তাকে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে মারধোর শুরু করে চার যুবক। এ সময় তার কাছে প্রথমে ১০ লক্ষ পরে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। তিনি তার স্ত্রীকে টাকা নিয়ে আসতে বললে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে তারা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। 

রাতে আইনজীবী বাচ্চুকে চিকিৎসার জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম সোমবার সকালে জানান, অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এএইচ