ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৭ মাঘ ১৪২৯ | ৯ রজব ১৪৪৪

ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ছবি: গ্লোবাল টিভি

রকিবুল হাসান রিপন, লালমনিরহাট :  লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ‘সিজার করে রংপুর মেডিকেল কলেজে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মা’ শিরোনামে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে ও ইউটিউবে  ভুল সংবাদ প্রকাশ করায় সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেলথ এন্ড মেডিকেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। 

রবিবার এক সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবিউল আলম ও চেয়ারম্যান ডাঃ তৌফিক আল আমিন। এ সময় রোগীর আত্মীয়স্বজনও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবাদ লিপিতে রবিউল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হেলথ এন্ড মেডিকেয়ার সেন্টারটি সরকারের আইন মেনে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ফলে জনগণের কাছে আস্থা অর্জন করেছে। যার ফলে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স দিয়ে বৈধতা দিয়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সবসময়ই আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছে। যা এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই জেনে গেছে। 

তিনি বলেন, একটি মহল পরপর দুইজন গাইনী চিকিৎসককে নিয়েও ষড়যন্ত্র করেছে যা হাতীবান্ধাবাসী জানে । এরপরও আমরা মহিলা ও প্রসূতি রোগীর জন্য একজন বিশেষজ্ঞ আবাসিক গাইনী চিকিৎসক নিয়ে এসেছি। ঐ স্বার্থান্বেষী মহলটি এখন তাদের নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য রোগীকে ফুসলিয়ে সাংবাদিকের সামনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। 

এ সময় ডাঃ তৌফিক আল আমিন বলেন, ২৪ অক্টোবর রাতে উপজেলার বাড়াইপাড়া এলাকার লাইজু বেগম নামে এক প্রসূতি মা বিলম্বিত প্রসব বেদনায় ছটফট করলে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ক্লিনিকে নিয়ে আসেন রোগীর মামা সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম আলম। এর আগে তারা বিভিন্ন যায়গায় নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করেছিলো। অপারেশনের পুর্বে পরীক্ষা করে দেখা যায়, রোগীর রক্তে অনেক ইনফেকশন রয়েছে। রোগীর জরায়ু দিয়ে রক্ত পড়ছিলো। যার ফলে ওই প্রসূতি মায়ের সিজার করতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। এসময় রোগীর অবস্থা ও আত্মীয়স্বজনদের বিশেষ অনুরোধে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার অপারেশন করতে বাধ্য হই। অপারেশনের ৪৮ ঘন্টার পর জরায়ুর সমস্যার কারনে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওই রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। ওই রক্ত ক্ষরণের সাথে সিজারের কোনো সম্পর্ক নেই। যা ইতিমধ্যেই রংপুরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য রোগীকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে জরায়ু সমস্যাকে সিজারের সমস্যায় রুপান্তিত করে সাংবাদিকের সামনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে। যার ভিডিও ক্লিপ একটি ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয়। ফলে আমাদের প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। 

রোগীর মামা সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম আলম বলেন, সিজারের ৪৮ ঘন্টা পর আমার ভাগ্নীর জরায়ু দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। বর্তমানে সে সুস্থ আছে। ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই।

এএইচ