ঢাকা, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ | ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুনামগঞ্জে আবুয়া নদীতে সেতু নির্মাণ হলে দুর্ভোগ কমবে লাখো মানুষের

সুনামগঞ্জে আবুয়া নদীতে সেতু নির্মাণ হলে দুর্ভোগ কমবে লাখো মানুষের

ছবিঃ: গ্লোবাল টিভি

মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ফতেপুর বাজার এলাকায় আবুয়া নদীর উপর সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কে সেতু না থাকায় সুনামগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিলো। ২০০৮ সালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৫ দশমিক ৯২৬ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্তের সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে এলাকাবাসী আশাবাদী হয়ে ওঠেন। 

তবে নদীর দুই পাড়ে ২টি পিলার স্থাপন করার পর নদীর মধ্যে অর্ধ নির্মিত ১টি পিলার পাইলিংয়ের সময়  সমস্যা দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সেতুর নিমার্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবার এলাকাবাসী নিরাশ হয়ে যায়। নানা সমস্যা সমাধান করে ২য় ধাপে ২০১৭ সালে সেতু নির্মাণের বরাদ্দ বাড়িয়ে ২২ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মান কাজের উদ্ধোধন করেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। 

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে তাহিরপুর উপজেলায় দুটি সড়ক দিয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা হয়েছিনল। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর হয়ে সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের দূরত্ব ৩৮ কিলোমিটার। অন্যটি সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নিয়ামতপুর-ফতেপুর বাজার হয়ে  সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। আর এ রাস্তা দিয়ে  তাহিরপুর যাতায়াত করতে ফতেপুর বাজারের পাশের আবুয়া নদীতে একটি খেয়া পার হতে হয়। 

অন্য দিকে,  তাহিরপুর উপজেলা থেকে ফতেহপুর-নিয়ামতপুর সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় যেতে ২৭ কিলোমিটার দুরত্বে সময় লাগে ৩০-৩৫মিনিট। সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় এলাকার মানুষ সারা বছর জেলা সদরের সাথে তাহিরপুর, ধর্মপাশা উপজেলা, মধ্যনগড় থানা ও ফতেহপুর ইউনিয়নের লোকজন বাধ্য হয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদর দিয়ে নানা দুর্ভোগ সয়ে জেলা সদরের সাথে যাতায়াত করছে। আর এক দিকে জামালগঞ্জ উপজেলার কিছু মানুষ তাহিরপুর যেতে হলে আবুয়া নদীতে সেতু না থাকায় পড়তে হয় নানান সমস্যায়। এখানকার অধিকাংশ কৃষক, সবজি চাষীরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বেচা কেনার জন্য নৌকা দিয়ে আসা-যাওয়া করতে গেলে যাতায়াত খরচের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে কষ্টার্জিত কৃষিপণ্য বিক্রি করে লাভের পরিবর্তে ক্ষতির শিকার হচ্ছে তারা। 

ফতেপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান  বলেন,  এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সেতুটি নির্মাণ করা হোক। কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পর নানা জঠিলতার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে গেলে আমরা হতাশগ্রস্ত হয়ে পড়ি। দীর্ঘ ১০বছর পর আবার সেতুর নিমার্ণ কাজ শুরু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য আন্দদের সংবাদ। 

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, আবুয়া নদীর সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামি বছর জুন মাসে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে পারবো। 

এএইচ