ঢাকা, সোমবার, ১৬ মে ২০২২ | ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ | ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩

শুভ বড়দিন আজ

শুভ বড়দিন আজ

ফাইল ছবি

খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন (ক্রিস্টমাস) আজ। দুই হাজার বছর আগে এই শুভদিনে পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। বেথেলহেমের এক গোয়াল ঘরে কুমারীমাতা মেরির কোলে জন্ম হয়েছিল যিশুর। দিনটিকে ঘিরে রাজধানীর গির্জাগুলোয় ইতোমধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের পৃথক পৃথক বার্তায় খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে খ্রীস্টান সম্প্রদায়। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীরা দিবসটি উৎসব ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্যে উদ্যাপন করবেন। তবে করোনা মহামারীর কারণে এই দিনটি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সর্বত্র মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে সীমিত আকারে উদ্যাপিত হবে।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ ২৫ ডিসেম্বর শুভ ‘বড়দিন’ উদ্যাপন উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশের খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বীরা সারাবিশ্বে যীশু খ্রিস্টের শুভ জন্মদিনকে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মাধ্যমে ‘বড়দিন’ হিসেবে উদ্যাপন করে থাকেন। যিশু খ্রিস্ট ছিলেন সত্যান্বেষী, মানবজাতির মুক্তির দূত এবং আলোর দিশারী। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে তিনি বহু ত্যাগের বিনিময়ে সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও খ্রিস্টধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেন। তিনি পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান জানিয়ে গেছেন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, যিশু খ্রিস্ট মানুষের মধ্যে ভালবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের শিক্ষা দেন। জাগতিক সুখের পরিবর্তে যিশু খ্রিস্ট ত্যাগ, সংযম ও দানের মাধ্যমে পরমার্থিক সুখ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতিতে জাতিতে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ অশান্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা ও আদর্শ খুবই প্রাসঙ্গিক বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান কোভিড-১৯ মহামারী আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করলেও থামিয়ে দিতে পারেনি। সরকারের সময়োচিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হারও শূন্যের কাছাকাছি। করোনা সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচী নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩১-দফা নির্দেশনা, সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

করোনাযুদ্ধে জয়ী হতে তিনি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারের বড়দিনের উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠানাদি স্বাধীনভাবে পালন করে আসছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমি একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাই।’ তিনি শুভ ‘বড়দিন’ উপলক্ষে খ্রিস্টধর্মাবলম্বীসহ সকলের জন্য অশেষ আনন্দ ও কল্যাণ, সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি। ‘বড়দিন’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব পালন করি। আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকলে মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।

‘বড়দিন’ উপলক্ষে তিনি খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই দিনে খ্রীস্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেন। পৃথিবীতে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল যিশু খ্রিস্টের অন্যতম ব্রত। মহামতি যিশু বিপন্ন ও অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেন। তার জীবনাচারণ ও দৃঢ় চারিত্রিক গুণাবলীর জন্য মানব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন।

প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে এবারের বড়দিন উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেশ ও জাতি তথা বিশ্ববাসীকে এই মহামারী থেকে যেন মুক্তি দেন- এ প্রার্থনা করি। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সকলে মিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার আহ্বান জানান। বড়দিনে তিনি খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীসহ সকল নাগরিকের শান্তি , কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এমএস