ঢাকা, বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২ | ৫ মাঘ ১৪২৮ | ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এখন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও আমাদের গর্ব: প্রধানমন্ত্রী

এখন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও আমাদের গর্ব: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় অটিস্টিক বা প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নিলে বাবা-মা তাদের লুকিয়ে রাখতো, বলতে পারতো না এবং মা জন্ম দিলো কেন—মাকেও পরিবারে অনেক সময় লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু জন্ম নিলে তাকে স্বামী তালাক দিয়ে দিয়েছে বা আরেকটা বিয়ে করেছে। এ ধরনের একটা অবস্থা আমাদের সমাজে ছিল। এখন আর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুকে কেউ লুকিয়ে রাখে না, বরং গর্বের সঙ্গে বলে।

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। গণভবন থেকে তিনি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তায় আমরা বয়স্ক ভাতা-বিধবা ভাতা দিচ্ছি, সেখানে আমরা প্রতিবন্ধী ভাতাও দিচ্ছি। আমাদের যে রিপোর্ট হয়, সেটা করার সময় আলাদা কলাম করে দিয়েছি যেন আমাদের যে প্রতিবন্ধী আছে তাদের আলাদা তালিকা করা হয়। কারণ, তাহলে আমরা জানতে পারি কোন কোন পরিবারে এ ধরনের মানুষ আছে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু যারা শিক্ষার্থী আমরা তাদের শিক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকি।

হিজড়া সম্প্রদায় এক সময় খুব অবহেলিত ছিল। হিজড়া সন্তান হলে বাবা মা তাকে ফেলে দিতো। আমরা সংবিধানে এবং সমাজে তাদের স্থান করে দিয়েছি। বাবা-মা তাদের আর ফেলে দেবে না। প্রতিটি ফর্মে তৃতীয় লিঙ্গে স্থান আমরা করে দিয়েছি। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা শিল্প কারখানা যদি তৃতীয় লিঙ্গ কিংবা প্রতিবন্ধীদের চাকরি দেয়, তাদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। সমাজের কেউ যেন অবহেলিত না থাকে, কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

এ সময় তিনি বলেন, আজ আমার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন। সবার কাছে দোয়া চাই। সে অটিস্টিক এবং প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য আজ ৫ জন নারীকে বেগম রোকেয়া পদক ২০২১ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা পদক হস্তান্তর করেন। পদকপ্রাপ্তরা হলেন— নারী শিক্ষার জন্য অধ্যাপক হাসিনা জাকারিয়া (বেলা); নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অর্চনা বিশ্বাস; নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য শামসুন্নাহার রহমান পরান (মরণোত্তর); নারী শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী বিপ্লবের জন্য অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা এবং পল্লী উন্নয়নের জন্য ড. সারিয়া সুলতানা।

এএইচ