ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

আজ পলাশী দিবস

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

ফাইল ছবি

আজ ২৩ জুন, ঐতিহাসিক পলাশী ট্র্যাজেডি দিবস। ২৬৩ বছর আগে এ দিনে পলাশীর আম বাগানে ইংরেজদের সাথে এক যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য।
পরাজয়ের পর নবাবের বেদনাদায়ক মৃত্যু হলেও উপমহাদেশের মানুষ তাঁকে আজো শ্রদ্ধা জানায়।

ইতিহাসবিদ নিখিল নাথ রায়ের লেখা ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’ থেকে জানা যায়, নবাবের সেনাবাহিনীর তুলনায় ইংরেজদের সেনা সংখ্যা ছিল অনেক কম। সেখানে বিশ্বাসঘাতকতা না হলে নবাবের বিজয় ছিল সুনিশ্চিত। আরেক ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র বলেন, নবাব ষড়যন্ত্রকারীদের গোপন ষড়যন্ত্রের কথা জানার পর যদি মীর জাফরকে বন্দী করতেন তবে অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারী ভয় পেয়ে যেত এবং ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে পলাশীর যুদ্ধ হতো না। ইতিহাসবিদ মোবাশ্বের আলী তাঁর ‘বাংলাদেশের সন্ধানে’ গ্রন্থে লিখেছেন, 'নবাব সিরাজউদ্দৌলা প্রায় এক লাখ সেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হন মীর জাফরের মোনাফেকিতে। পরে ঘৃণ্য মীর জাফরের কুষ্ঠরোগে মত্যু হয়।'

বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁ মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে নবাবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করে যান। নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। নবাবের খালা ঘষেটি বেগম ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। সেনাপতি মীর জাফর আলী খান, ধনকুবের জগৎ শেঠ, রাজা রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। ধূর্ত ইংরেজরা সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে চন্দন নগরের ফরাসিদের দুর্গ দখল করে নেয়।

এরপর ১৭৫৭ সালের ১৭ জুন ক্লাইভ কাটোয়ায় অবস্থান নেন। নবাব ২২ জুন ইংরেজদের আগেই পলাশী পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। ২৩ জুন সকাল ৮টায় যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে।

পলাশী দিবস উদযাপনে বিভিন্ন সংগঠন অন্যান্য বছর কর্মসূচি দিয়ে থাকলেও করোনা মহামারীর কারণে এবার কোনো কর্মসূচি নেই।

এএইচ/জেইউ

 


oranjee