ঢাকা, বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫ মাঘ ১৪২৬

 
 
 
 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুম্পার মৃত্যু: তদন্ত শুরু

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

ছবি সংগৃহীত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের পাশের ১১ তলা ভবনের (আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স) ছাদে দুটি জুতার ছাপ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো রুম্পার জুতার। ছাদের সঙ্গে লাগোয়া সামান্য ঢালু ছোট্ট একটি কার্নিশে এই ছাপ পাওয়া যায়। নিচে পড়ার আগে হয়তো সেখানে তিনি সর্বশেষ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

এরই মধ্যে ওই ছাপ ও জুতার ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, যদি ওই কার্নিশ থেকে রুম্পা নিচে পড়ে যান তবে স্বেচ্ছায় ভবন থেকে লাফ দিয়েছেন বলে যে ধারণা করা হচ্ছে সেটি জোরালো হবে। তবে তাকে কেউ নিচে ফেলে দিয়েছে কিনা- এ বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বুধবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডে ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির প্রধান গেটের সামনে রুম্পার লাশ পড়ে ছিল। আশপাশের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই সময় উপর থেকে বিকট শব্দে কিছু একটা পড়েছিল। পরে বেরিয়ে দেখেন, রাস্তায় পড়ে আছে এক তরুণীর লাশ। রাস্তার এক পাশে চারতলা এবং অপর পাশে পাঁচতলা একটি ভবন রয়েছে। ওই রাস্তার মাথায় রয়েছে একটি ১১ তলা ভবনের (আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স) পেছন দিক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকেই পড়েছেন।

১১ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ছাদটি অরক্ষিত। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ছাদে হাঁটাচলা করাও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ছাদের চারদিকে কোনো রেলিং নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।

এদিকে রুম্পার লাশ উদ্ধারের একদিন পর বৃহস্পতিবার তার পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। তিনি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তিনি মালিবাগের শান্তিবাগের একটি বাসায় থাকতেন। তার বাবা রোকনউদ্দিন হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক।

গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের বিজয়নগর গ্রামে। শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়িতেই রুম্পাকে দাফন করা হয়।

এদিকে, রুম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে- এমন দাবি করে বিচার দাবি করেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাস থেকে একটি র‌্যালি নিয়ে ভিকারুনিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের সড়কে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আরিফুর রহমান বলেন, রুম্পার সঙ্গে যাই ঘটে থাকুক না কেন সেটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিচার করতে হবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, রুম্পা হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এ এইচ

 


oranjee

আরও খবর :