ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১ |

 
 
 
 

জামাই-শ্বশুর লড়াইয়ে জয়ের মালা শ্বশুরের গলায়

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

শ্বশুর বাবুল মিয়া ও জামাই হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিলো কাউন্সিলর পদে জামাই-শ্বশুরের লড়াই। জামাইয়ের প্রতীক পানির বোতল আর শ্বশুরের পাঞ্জাবি।

ভোট শেষে দেখা গেলো, ৮নং ওয়ার্ডের ভোটাররা ভালোবাসা দেখালেন শ্বশুরের প্রতি। শ্বশুর মো. বাবুল মিয়া ১৪৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামাই মো. হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৮৪৬ ভোট। এই ওয়ার্ডে আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী মো. দেওয়ান সাদ্দাম উট পাখি প্রতীকে মাত্র ৬৮ ভোট পেয়েছেন।

রবিবার সন্ধ্যায় জামাই-শ্বশুরের কেন্দ্র দেবগ্রাম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কামাল আহাম্মদ খান শ্বশুরের জয়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

মো. বাবুল মিয়া দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন। তাঁর মেয়ে লিজা আক্তারের শ্বশুর মন্তাজ মিয়া এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। বাবার অসিয়ত পূরণেই জামাই ভোটের মাঠে নামেন বলে জানান লিজা আক্তার।

জানা গেছে, মূলত প্রচারণার ভিন্ন কৌশলে শ্বশুর বাবুল মিয়া জয়লাভ করেছেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে আত্মসম্মান রক্ষার জন্য ভোটারদের কাছে অনুরোধ করেন। মেয়ের জামাইয়ের কাছে হেরে গেলে বেঁচে থাকা কষ্টের হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে অনেকের মন গলে যায়।

বিজয়ী হয়ে বাবুল মিয়া বলেন, আমি আমার মেয়ের জামাইকে নিজের ছেলের মতো দেখেছি। এখনো তা দেখব। আমি তাকে কলিজার টুকরো মনে করেছি। এখনো তা করব। এতে আমাদের মাঝে সম্পর্ক নষ্ট হবে না। জামাই তো জামাই-ই। আমার মেয়ে ভোট কেন্দ্রেই আসেনি। তাই নিজের বাবা বা স্বামী, কাউকেই ভোট দেয়নি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বাবুল মিয়া তার মেয়ের জামাই হুমায়ূনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু হুমায়ূন তার শ্বশুরের কথা না শুনে ভোটে দাঁড়ান। বাবার ওসিয়ত তাই নির্বাচন করবেন বলে জামাই ঘোষণা দেন। উল্টো শ্বশুরকে ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

এএইচ/জেইউ 


oranjee