ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ |

 
 
 
 

জাল সনদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা নেয়ার অভিযোগ

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৭, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শাজাহানপুরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জাল করে সুযোগ-সুবিধাসহ ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে হযরত আলী নামে একজনের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার দুপুরে শাজাহানপুর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাটাখালী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমানের সনদ জাল করে নিজের নামে সনদ তৈরি করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ ভাতা ভোগ করে আসছেন একই গ্রামের মৃত গফুর প্রামাণিকের ছেলে হযরত আলী।

লিয়াকত আলী জানান, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শহীদ হন সারিয়াকান্দি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমান। মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারে বাবা, মা, ভাই, বোন ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সে সময় মানবেতর জীবনযাপন করছিল পরিবারটি। পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার প্রলোভন দেখিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমানের স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র (আতাউল গণি ওসমানী স্বাক্ষরিত) জাল করে নিজ নামে সনদ তৈরি করেন হযরত আলী। এরপর ১৯৭৩ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রক্ষী বাহিনী বিলুপ্তির পর কৌশলে সেনাবাহিনীর সিগনাল কোরে যোগদান করেন হযরত আলী। সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ মূলে সেনাবাহিনীর বিশেষ গেজেটে নিজেকে শাজাহানপুর বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। অথচ সারিয়াকান্দি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর পক্ষে কোনো সনদ ও দলিল প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ ভারতীয় তালিকা বই নং, এফ এফ নং, সেক্টর নং, মুক্তি বার্তা নং, গেজেট নং ও ডাটা বেইজ সম্পূর্ণ ভূয়া কাগজপত্র সন্নিবেশিত করে সেনাবাহিনীর বিশেষ গেজেট মূলে বর্তমানে শাজাহানপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে রক্ষী বাহিনীতে যোগদান করে বেসামরিক গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে সেনাবাহিনীর গেজেট মূলে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয় এটা বোধগম্য নয়। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অপ্রাসাঙ্গিক, মিথ্যা ও ভুয়া। এ অবস্থায় প্রতারক হযরত আলীসহ যারা ১৯৭১ সালের পরে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হয়ে সেনা গেজেট মূলে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনার দাবি জানান মুক্তিযোদ্ধারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গৌরগোপাল গোস্বামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ, হাবিবর রহমান, আমজাদ হোসেন, বছির হোসেন, এএসএম মুসা, হরিপদ দাস, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল হালিম, ইব্রাহীম হোসেন প্রমুখ।

এএইচ/জেইউ 


oranjee