ঢাকা, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ |

 
 
 
 

বিজয়ের মাস: ৭ ডিসেম্বর ১৯৭১

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০২০

ফাইল ছবি

আজ ৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১-এর এই দিনে মুক্ত হয় দেশের বেশ কয়েকটি জেলা।

বাংলার দামাল ছেলেরা একের পর এক সফল অপারেশনের মাধ্যমে পাকবাহিনীকে পরাজিত করে এগিয়ে যায় চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তানবিরোধী মিছিলে রাজাকাররা গুলি করে হত্যা করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাককে। এর পরই রুখে দাঁড়ায় সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা। তারা যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের খরচ বহনের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা ও অলংকার লুট এবং অস্ত্র লুটের মধ্য দিয়ে শুরু মুক্তি সংগ্রাম। ৮ম ও ৯ম সেক্টরের অধীনে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিং শেষে ২৭ মে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় দুই শতাধিক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। ১৭ ঘণ্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হন তিনজন মুক্তিযোদ্ধা। আহত হন আরও দুইজন মুক্তিযোদ্ধা।

ডিসেম্বরের শুরু থেকেই জেলার পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের চরে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা গাইবান্ধা শহরের দিকে এগুতে থাকেন। এরপর একে একে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি থানা মুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা গাইবান্ধা শহর চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। হানাদার ও মুক্তিবাহিনীর মধ্যে চলতে থাকে যুদ্ধ।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশ শত্রুমুক্ত করতে সাতক্ষীরার বীর সন্তানরা অন্তত ৫০টি ছোট-বড় যুদ্ধে হানাদার বাহিনীকে মোকাবেলা করে। অবশেষে, ৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা শত্রুমুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সাতক্ষীরা শহরে ঢোকে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিপাগল আপামর জনতা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরা।

৬ ডিসেম্বর সকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দু’টি বিমান গাইবান্ধা রেল স্টেশনের পাশে বোমা ফেলে এবং বিকেলে ট্যাংক নিয়ে মিত্রবাহিনী প্রবেশ করে শহরে। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে হানাদার বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার-আলবদরদের ফেলে রংপুর ক্যান্টনমেন্টের উদ্দেশে পালিয়ে যায়।

পরদিন ৭ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের কালাসোনার চর থেকে বালাসী ঘাট হয়ে গাইবান্ধা শহরে আসেন। তাদের নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার মাহবুব এলাহী রঞ্জু (বীর প্রতীক)। তাদের দেখে হাজার-হাজার মানুষ বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়ে। গাইবান্ধার যুদ্ধগুলোর মধ্যে বাদিয়াখালীর যুদ্ধ, হরিপুর অপারেশন, কোদালকাটির যুদ্ধ, নান্দিনার যুদ্ধ ও কালাসোনার যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য।

৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা শত্রুমুক্ত হয়। বাঙ্গালীর ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবময় অধ্যায়। একাত্তরের চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনী বিশেষ অবদান সৃষ্টি করেছে। চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা ছিলো নেতৃস্থানীয় আর অবদান ছিলো অপরিসীম।

পাকবাহিনী যশোর থেকে ট্রেনযোগে এসে চুয়াডাঙ্গা প্রবেশ করে। আলমডাঙ্গা রেললাইনের পাশে পাকিস্তানী হানাদাররা ডাউন ট্রেন থামিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষের ট্রেন থেকে নামিয়ে পাশের মাছ বাজারে হত্যা করে সেটিকে বধ্যভূমিতে পরিণত করে।

১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা শহর ও আলমডাঙ্গা ছেড়ে কুষ্টিয়ার দিকে চলে গেলে চুয়াডাঙ্গা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয় ।

যুদ্ধের শুরু থেকেই নোয়াখালীর পিটিআই স্কুলটিকে শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলে পাকবাহিনী। ৬ ডিসেম্বর ভোরে ঘাঁটিটি ঘেরাও করে মুক্তিবাহিনী। দিনভর সম্মুখ যুদ্ধের পর রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী। ৭ ডিসেম্বর সকালে সেখান থেকে কয়েকজন রাজাকারকে গ্রেফতার করে মুক্তিযোদ্ধারা। স্বাধীন হয় নোয়াখালী।

এদিকে, একই দিনে ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাস্ত হয় পাকবাহিনী। সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে দেবহাটা উপজেলার শ্রীপুর ও ভোমরা সীমান্তে যুদ্ধে পাকবাহিনীর সাড়ে তিনশ’ সদস্য মারা যায়।

এই দিনে মুক্তিপাগল জনতা ও দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধারা নাসিরনগর থেকে পাক-হানাদারদের বিতাড়িত করেন। 

এএইচ/জেইউ 


oranjee