ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

রোহিঙ্গা গণহত্যার কথা স্বীকার করলেন মিয়ানমারের দুই সেনা

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দুই সদস্য সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ভিডিও বার্তায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর ২০১৭ সালে হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, গণকবর দেয়াসহ গুরুতর অপরাধ সংঘটনের কাজে অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে তাঁরা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরের দপ্তরের হেফাজতে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই দুই সদস্য হলেন মিয়ো উইন তুন (৩৩) ও য নিং তুন (৩০)।

দ্য হেগে তাঁদের সাম্প্রতিক উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর জেনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধের বিচারের পথে বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, আইসিসির প্রসিকিউটরের চলমান তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিতে পারে তাঁদের এই স্বীকারোক্তি।

ভিডিওতে মিয়ো উইন তুন বলেছেন, তাঁর কমান্ডিং অফিসার তাঁদের আদেশ দিয়েছিলেন, ‘যা দেখবে, শুনবে সবগুলো শেষ করে দাও’। আর তা মেনে তিনি ৩০জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে হত্যায় অংশ নেন। এরপর তিনি সামরিক ঘাঁটি ও ওয়াচ টাওয়ারের কাছে তাদের গণকবর দেন।

প্রায় একই সময় কাছাকাছি টাউনশিপে ছিলেন য নিং তুন। তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা তাঁদের ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদেশ পালন করেছিলেন। তাঁদের ওপর আদেশ ছিল, ‘শিশু বা বৃদ্ধ যাদের দেখতে পাবে মেরে ফেল।’ য নিং তুন বলেন, ‘আমরা প্রায় ২০টি গ্রাম খালি করে গণকবর দিয়েছি।’

মিয়ানমারের এই দুই সেনা সদস্য যে ধরনের অপরাধ সংঘটনের বর্ণনা দিয়েছেন তার সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বর্ণনার মিল পাওয়া যায়।

মানবাধিকার সংগঠন ফরটিফাই রাইটসের প্রধান নির্বাহী ম্যাথু স্মিথ বলেছেন, মিয়ানমারের ওই দুই সেনা সদস্য বর্তমানে দ্য হেগে আছেন—এটি বিশ্বাস করার মতো কারণ তাঁদের কাছে আছে। কিন্তু আইসিসির মুখপাত্র মিয়ানমারের ওই দুই সেনার আইসিসির হেফাজতে থাকার ভাবনা নাকচ করেছেন।

জানা গেছে, ভিডিও বার্তায় মিয়ানমারের ওই দুই সেনা তাঁদের যে পরিচয় দিয়েছেন তার সত্যতা মিলেছে। তাঁদের সামরিক ইউনিটগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে চিহ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার মিয়ানমার অস্বীকার করেছে। তবে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে আইসিসি সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার বিচারিক এখতিয়ার আইসিসির আছে।

এএইচ/জেইউ


oranjee