ঢাকা, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

ঘরে রাখা যে উপকরণ গর্ভে থাকা সন্তানের জন্য ক্ষতিকর

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:৪৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

ছবি- সংগৃহীত

সন্তানের মা হওয়া প্রত্যেক নারীরই স্বপ্ন, তাই গর্ভধারণ সব মেয়ের জন্য আনন্দের বিষয়। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার পর সেই আগত সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় সবার আগে। আর তাই গর্ভবতী মায়ের খাবার-দাবার, চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ক্যাফেইনসহ ক্ষতিকর পানীয় ও খাবার বর্জন করতে হয় আগত সন্তানের সুস্থতার কথা ভেবেই। এক্ষেত্রে একটি বিষয় অনেকটাই উপেক্ষা করেন গর্ভবতীরা। তা হলো- যে ঘরে তিনি থাকেন, সেখানে কোনও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।

গর্ভবতী মায়ের খাবার-দাবার নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক গর্ভ ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহমিদা ফেরদৌসি বলেছেন, মা না হলে আসলেই কেউ বুঝতে পারে না যে মা হওয়া কতটা কষ্টের। তাই এই সময়টাতে হাটা-চলা থেকে শুরু করে খাবারের পুষ্টিগুণ সবকিছুতেই একটু হিসেবি হয়ে ওঠেন গর্ভবতী মা। তেমনি বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল এড়িয়ে চলার ব্যাপারেও গর্ভবতী মা সিরিয়াস হয়ে উঠতে হবে।

আমেরিকার অ্যাডওয়ার্ড ভায়া কলেজ এবং ভার্জিনিয়া ম্যারিল্যান্ড কলেজের সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় জানা গেছে, বাসা বাড়ির সৌন্দর্যে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর মাঝে অনেক কেমিক্যালই শিশুদের অস্বাভাবিক জন্ম ও স্বাস্থ্যগত জটিলতার জন্য দায়ী। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একজনও যদি সেসব কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসেন, তাহলেও তা আগত শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব উপকরণ হলো-

দেয়াল রঙ করা
ঘরে যদি স্ত্রী গর্ভবতী থাকে, তাহলে ওয়াল পেইন্টের কাজ করানোর আগে ভেবেচিন্তে করুন । কারণ ওয়াল পেইন্টের উপকরণে সীসার পরিমাণ বেশি থাকে যা গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। এই সীসার প্রভাবে গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুর জন্মগত ত্রুটি বা প্রিম্যাচিউর বেবি জন্ম হবার আশঙ্কা থাকে। তাই সে পরিস্থিতিতে ওয়াল পেইন্ট করতে হলে খেয়াল রাখুন ঘরে ভেন্টিলেশন ভালো আছে কি-না। ওয়াল পেইন্ট করার সময় গর্ভবতী মাকে ঘর থেকে দূরে সরিয়ে রাখা উচিত।

মশার স্প্রে
মশা ও পোকা দূর করতে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন স্প্রে বেশ কার্যকর হলেও সেগুলো গর্ভবতী নারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর না। কয়েক ধরনের কেমিক্যাল থাকে সেসব স্প্রেতে, যেগুলো গর্ভে থাকা শিশুর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গর্ভবতী মায়ের কথা বিবেচনা করে প্রথম কয়েক মাস প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা করা অথবা পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য স্প্রে ব্যবহার করা উচিত।

ন্যাপথলিন
ঘর ও টয়লেট থেকে কীটপতঙ্গ দূর করা এবং দুর্গন্ধ কমাতে বাজারে প্রচলিত ন্যাপথলিন বল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই ন্যাপথলিন বলের ৯৮ শতাংশই টক্সিক কেমিক্যাল-ন্যাপথলিন। তাই এটি গর্ভবতী নারীর বমি ভাব, ঝাপসা দেখাসহ বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই কেমিক্যাল আগত শিশুর জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিড়াল রাখার ছোট ঘর
অনেক সময় খুব অপ্রত্যাশিতভাবেই অনেক উপকরণ রোগ ও সংক্রমণের জন্য দায়ী। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরে থাকা বিড়াল রাখার ছোট ঘর বা ক্যাট লিটার বক্স বা স্যান্ডবক্সে টক্সোপ্লাজমা গোন্ডি নামের প্যারাসাইট থাকে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই প্যারাসাইট গর্ভবতী মায়ের শরীরে প্রবেশ করলে আগত শিশুর জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে তা, এমনকি মায়ের জন্যেও এটি ক্ষতিকর। গবেষকরা বলছেন, না ধুয়ে কোনও ফল বা সবজি খেলে বা দূষিত পানি পান করলে যে ক্ষতি হয় শরীরের, এই প্যারাসাইট তেমন ক্ষতি করে।

প্লাস্টিক
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন পুরো বিশ্বের জন্যই প্লাস্টিক একটি ক্ষতিকর উপকরণ। তবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই প্লাস্টিক থেকে দূরে থাকা আরো জরুরি, কারণ এতে ফেলাইট নামের কেমিক্যাল থাকে, যা শরীরে সহজে প্রবেশ করতে পারে। এই কেমিক্যাল গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

আরকে


oranjee

আরও খবর :