ঢাকা, শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন : প্রধানমন্ত্রী

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এই অর্জন দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেন তিনি।

আজ শনিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একযুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়ার বাংলাদেশ। অর্থনীতির ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। জিডিপি, মাথাপিছু আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার কমানো, তৃণমূলে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশের পেছনে গত ১২ বছরের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। এই অর্জনে দেশের মানুষ কাজ করেছেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম, কখনো দেশ চালানোর সুযোগ পেলে গ্রামের মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে কাজ করবো। কারণ, দেশের ৮০ ভাগ মানুষ বসবাস করেন গ্রামে। ১৯৯৬ সালে জনগণের রায়ে আওয়ামী লীগ যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তখন থেকেই দেশের অবকাঠামো থেকে বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নে কাজ করেছি। ওই সময় কৃষি উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছি, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা দেশের মানুষের জন্য পুরনো কাপড় বিদেশ থেকে নিয়ে আসতেন। গ্রাম উন্নয়নে শাসকরা এগিয়ে আসেনি। মানুষের হাতে কাজ ছিল না। সারা দিন কাজ করে দু’মুঠো চাল কিনে ঠিকমত ভাত খেতে পেতেন না। জনগণ এসব বঞ্ছনার কথা কাউকে বলতে পারতেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য যা যা দরকার আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। টিকা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। আমরা আগেই বলেছি, যেখানে আগে পাওয়া যায় সেখান থেকে আমরা টিকা আনবো, মানুষকে সুরক্ষা দেব। এটা আমাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়েছি আরো ৩ কোটি ডোজ কেনার। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। যদি আমাদের দেশ উৎপাদন করতে পারে, আমি আমাদের ফার্মাসিটিউক্যালস কোম্পানিগুলোকে ইতিমধ্যে বলেছি যে, কারা কারা এটা করতে পারবে, তারা যেন প্রস্তুত থাকে এবং কিভাবে দ্রুত আনার ব্যবস্থা করা যায় সেটাও আমরা এখন দেখছি। মানুষকে সুরক্ষা দেয়া, এটা আমার কর্তব্য।

তিনি আরো বলেন, ডাব্লিউএইচও’র নির্দেশ অনুযায়ী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের নির্ধারিত বয়স অনুযায়ী টিকা দিতে হবে। কারণ, আমরা খুব দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে চাই।

কবে টিকা নেবেন জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি অবশ্যই টিকা নেবো। তবে দেশের মানুষকে আগে দিতে হবে। আমার ৭৫ বছর বয়স। আজ আছি, কাল নেই। যেকোনও সময় মারা যেতে পারি। একটা টার্গেট করা আছে, সে পরিমাণ যখন দেয়া হবে তখন যদি টিকা থাকে তাহলে তখন টিকা নেবো।’

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার রাতে জানানো হয়, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে।

এমএস/জেইউ 

 

 


oranjee