ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

সুশান্ত পোদ্দার-এর দশটি পরমাণুকাব্য

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৩, ২০২০

অণুজী‌বের থাবা
সঙ্গ‌নি‌রোধ
জ্ঞা‌ন-অন্ধ বি‌রোধ!

২.
যোগ্য'র পরাজয়
শকুন‌-চোখ
‌হতাশার স‌ম্ভোগ।


প্রলম্বিত সময়
জীবন‌বোধ
জন্মঋণের শোধ!

৪.
বিশ্বাসের দৈন্যতা
আ‌ত্মক খেদ
ভালবাসায় ছেদ!

৫.
ক‌ষ্টের অবসান
মহাপ্রয়াণ
স্পন্দনহীন প্রাণ।

৬.
জুলুম-‌নি‌স্পেষণ
জারজ শ‌ক্তি
মানবতায় মু‌ক্তি।

৭.
নিজের প্রতি ঘৃণা
পালিয়ে বাঁচা
শুদ্ধতার প্রত্যাশা।

৮.
সৃজ‌নের ব্যর্থতা
নতুন জ্ঞান
শুদ্ধ সৃ‌ষ্টির প্রাণ।

৯.
সংশয় অনুক্ষণ
জ্ঞান-সম্ভার
‌জীব‌নের বিস্তার।

১০. 
স‌ত্য‌কে সঙ্গ দেয়া
শুদ্ধ জীবন
আনন্দের স্ফুরণ।

পরমাণুকাব্য : পরমাণুর গঠনরীতি ও বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতি রেখে তিন ধাপে ১৭ মাত্রায় গঠিত এক নতুন ফর্মেটের কবিতা যা কাঠামোগতভাবে হাইকুর আদলের। তবে বৈশিষ্ট্যগতভাবে পরমাণুর গঠনরীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরমাণুর ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন সংখ্যার ভেতরে যেমন সমতা থাকে সেই বৈশিষ্ট্যকে মূল ধরে পরমাণুকাব্য প্রথম ও তৃতীয় লাইনে সমান সংখ্যক ৭ মাত্রা ধারণ করে আর দ্বিতীয় লাইনে থাকে ৫ মাত্রা। পরমাণুর কেন্দ্র নিউক্লিয়াসে যেমন নিউট্রন ও প্রোটন মিলেমিশে থাকে তেমনি পরমাণুকাব্যের প্রথম দুটি লাইন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে মিশে থাকে।

পরমাণুকাব্যে প্রথম লাইনে কোনো সমস্যাকে তুলে ধরা হয় অথবা নির্দিষ্ট ভাবের অবতারণা করা হয় দ্বিতীয় লাইনে প্রকাশিত ভাবনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য থাকে আর তৃতীয় লাইন মূলত প্রথম দুই লাইনের সাথে সংযোগ স্থাপন করে প্রকাশিত সমস্যা হতে উত্তরণের পথনির্দেশ করে অথবা ভাবের পরিণতি ঘটে। এটি মূলত এক ধরণের চিন্তাপ্রবণ কবিতা যা বিভিন্ন সমস্যা ও তা থেকে উত্তরণকে তুলে ধরে।

এমএস


oranjee