ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ |

 
 
 
 

টেক্সাসে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পরিবারের দুই ছেলে অন্য সদস্যদের হত্যা করে নিজেরাও আত্মহত্যা করেছেন।

এই ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। 

নিহতরা হলেন তাওহিদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী আইরিন ইসলাম, তাঁদের তিন সন্তান তানভীর তাওহীদ, ফারবিন তাওহীদ, ফারহান তাওহীদ এবং আইরিন ইসলামের বৃদ্ধা মা আলতাফুন নেসা।

পুলিশ বলছে, শনিবার কোনো একটি সময় এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটি সবাই জানতে পেরেছে সোমবার সকালে ঘুম ভাঙার পর।

জানা যায়, টেক্সাসের ডালাসের অ্যালেন হোমে বসবাস করতেন বাংলাদেশি দম্পতি তাওহীদুল ইসলাম ও আইরিন ইসলাম। তাঁদের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। আইরিন ইসলামের মা আলতাফুন নেসা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন মেয়ের কাছে থাকার জন্যে। দেশে ফেরার কথা থাকলেও করোনার কারণে আটকা পড়েছিলেন তিনি।

পুলিশ মুখপাত্র সার্জেন্ট জন ফেল্টি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য বলছে, তাওহীদুল ইসলামের দুই ছেলে নিজেরা ঠিক করেছিলেন যে, তারা আত্মহত্যা করবেন। সেই সঙ্গে পুরো পরিবারকেও তারা মেরে ফেলবেন। সে অনুযায়ী তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন। এই দুই ভাইয়ের একজন সম্প্রতি বন্দুক কিনেছিলেন।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সুইসাইডাল নোট রেখে গেছেন ১৯ বছর বয়সী ছোট ছেলে ফারহান তাওহীদ। যেখানে তিনি নিজেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের কর্মকর্তা শাওন আহসান অন্য কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, 'ঘটনাটি জানার পর বেশ অনেকক্ষণ যেন আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না। হত্যাকাণ্ডের শিকার তাওহীদুল ইসলাম আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁকে সবসময়ই গর্বিত হতে দেখেছি।'

প্রতিবেশী আহমেদ হোসেন জানান, নিউইয়র্ক থেকে পরিবারটি সাত-আট বছর আগে টেক্সাসের ডালাসে যান। এরপর থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করতেন পরিবারটির সদস্যরা।

আহমেদ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ হোসেন বলেন, 'নিহত আইরিন ইসলাম সবসময়ই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে গল্প করতেন। কীভাবে তারা ভালো রেজাল্ট করছে, কীভাবে স্কলারশিপ নিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে- এসব বলতেন। কিন্তু তাঁর সন্তানদের কেউ এমন কিছু করতে পারেন, ধারণা করতে পারছি না।'

পাবনা জেলা সমিতির সভাপতি কামাল পাশা আরো বলেন, 'ঘটনাটি জানার পর থেকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। এই পরিবারটির সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক।'

নিউইয়র্কে বসবাসকারী কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও পাবনার বাসিন্দা গোপাল সান্যাল বলেন, 'মর্মান্তিক ঘটনাটির শিকার পরিবারটির বাড়ি পাবনার দোহার পাড়ায়। দোহার পাড়ার বিখ্যাত ব্যক্তি জিয়া হায়দার, রশিদ হায়দার উনাদের নিকটাত্মীয় বলে জেনেছি। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।'

এএইচ/জেইউ 


oranjee