ঢাকা, শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিবাহ বন্ধনে দরকার উপযুক্ত ম্যাট্রিমনি সেবা

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

ফাইল ছবি

রাফি হক : পাশ্চাত্য দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াতে ধীরে ধীরে বিয়ের গুরুত্ব হয়তো কমে যাচ্ছে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এর গুরুত্ব একটুও কমেনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ-তরুণীদের বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রী খুঁজে পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে খুব বড় একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই সমস্যা নিয়ে এখন থেকেই আমাদের কথা বলা এবং কাজ করা উচিত।

মূলত, বাংলাদেশে যারা থাকেন তারা প্রবাসে কোন পাত্র-পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে যে বিষয়কে গুরুত্ব দেন তা হলো সেই ছেলে বা মেয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন কিনা। কিন্তু অন্য একটা দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে একজন মানুষকে অবশ্যই সে দেশে অনেকদিন থাকতে হয় এবং সে দেশে থাকার দরুন তার সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আসে। অনেক সময় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অনেকে কন্ট্রাক্ট ম্যারিজও করে থাকেন। এই বিষয়গুলো মূলত পাত্র-পাত্রী খোঁজার ক্ষেত্রে যাচাই করা বা বলা হয় না। যার ফলে দেখা যায়, বিয়ের পরে অনেক বৈবাহিক কলহ শুরু হয়ে যায়।

মূলত দুই ধরনের প্রবাসী আছেন। একদল যারা চাকুরীর উদ্দেশ্যে বিদেশে যান এবং আরেকদল যারা পড়াশোনার জন্য বিদেশে যেয়ে থাকেন। যারা মূলত পড়াশোনার জন্য বিদেশে যান, তাদের অনেকেই চান সে দেশেই যদি বাংলাদেশি কেউ থাকেন তবে তাদের সাথে বিয়ে করে সেখানেই সেটেল হতে। দেখা যায় যে, তারা পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তাই খুব বেশি চেনা-জানার সুযোগ হয় না এবং না জানার কারণে বিয়ের পরে তাদেরকেই নানাবিধ বৈবাহিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বর্তমান টেকনোলজির যুগে যেকোন বিষয়ে তথ্য জানার জন্য একটি ওয়েবসাইট থাকা খুব জরুরি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিয়ের জন্য তেমন কোন ওয়েবসাইট নেই। আমরা যদি ভারতের Shaadi.com ওয়েবসাইটটি দেখি তাহলেই বুঝা যায়, তারা বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কিভাবে সারাবিশ্বে তাদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। ১৯৯৭ সালে অনুপম মিত্তাল প্রথম Sagaai.com এর মাধ্যমে তাদের অনলাইনভিত্তিক সেবা দেয়া শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে নাম পরিবর্তন করে Shaadi.com নামে এর সফল যাত্রা শুরু হয়। তারা যখন তাদের যাত্রা শুরু করেন তখন ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। পরবর্তীতে ২০১১ সালে তাদের ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২০ মিলিয়ন। প্রথম দিকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েও তারা তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়নি। বিভিন্ন আইডিয়া এবং প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যান। এখন বিশ্বে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য অনলাইনভিত্তিক বিয়ে সংক্রান্ত সেবা দেয়ার সাইট হচ্ছে Shaadi.com। বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও যদি এমন একটি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে প্রবাসীরা এবং যারা দেশে থাকেন তারা তাদের যোগ্য সঙ্গী খুঁজে নিতে পারবে।

বিয়ে সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানার একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং তথ্যবহুল ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এতে করে অভিভাবকরা তাদের সন্তানের জন্য একজন যোগ্য সঙ্গী খুঁজে নিতে পারবেন।

বাংলাদেশিরা মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে ফেসবুক বেশি ব্যবহার করে থাকেন। তাই বিয়ে সংক্রান্ত একটা ফেসবুক ভিত্তিক পেজ এবং গ্রুপ থাকাটা দরকার। এর ফলে তারা সহজে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। যত বেশি চেনাজানা হবে তত বেশি সুবিধা হবে নিজের জন্য একজন সঙ্গী খুঁজে নেয়া।

যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে, প্রবাসী বিভিন্ন কমিউনিটি থেকে তাদেরকে সাপোর্ট করতে হবে। কিছুটা আর্থিক সাপোর্টেরও প্রয়োজন আছে যা কমিউনিটি থেকে করলে খুব সহজে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয় অন্য বিভিন্ন দেশেও যারা এই পেশায় নিয়োজিত আছেন সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকের সংখ্যা একদিকে ধীরে ধীরে বাড়ছে আবার অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়াতে অনেকে চিরস্থায়ীভাবে সেটেল হচ্ছেন। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশি সব ধরনের মানুষের জন্য বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং এই নিয়ম খুব দ্রুত বদলাবে না। তাই এ নিয়ে আমাদের ভালো করে কাজ করতে হবে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে।

লেখক : স্বত্বাধিকারী-মেট ম্যাচ (Mate Match)
Email: info.matematch@gmail.com

এমএস/জেইউ


oranjee