ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

অনলাইন শিক্ষায় ভর্তুকির কথা ভাবছে সরকার

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৫, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

করোনা সংক্রমণের সময়টায় শিক্ষার্থীরা যাতে ঘরে বসে অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে সেজন্য তাদের ইন্টারনেট খরচ সরকারই দিয়ে দেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

উপমন্ত্রী বলেন, 'অনলাইনের মাধ্যমে পাঠদান পৌঁছে দিতে শিক্ষার্থীর যে 'ডাটা কস্ট' - সেটি আমরা সাবসিডাইজ করার কথা ভাবছি।'

দেশে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ১০ দিনের মাথায় মার্চের মাঝামাঝি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী স্কুল বন্ধের সময়সীমা কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। সেই থেকে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘ধরুন আমরা একটা সরকারি ওয়েবসাইট করলাম। সেখানে ক্লাসের পড়া রেকর্ডেড থাকবে। যার কাছে একটা স্মার্ট ডিভাইস থাকবে সে তার সময়মতো ক্লাস করে নিতে পারবে। মোবাইল কম্পানিগুলো আমাদের বলবে এই সাইটের জন্য কত টাকা ডাটা কস্ট এসেছে। সেটি সরকার পরিশোধ করে দেবে।'

উপমন্ত্রী বলেন, স্কুল পর্যায়ে সব শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে ক্লাস না করিয়ে কয়েক ভাগে ভাগ করে ক্লাস নেয়ার সেরকম পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এটি হতে পারে এক সপ্তাহে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্লাস করবে। পরের সপ্তাহে অন্যরা। তবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে যে কার্যক্রমই নেয়া হবে তা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ীই হবে।

বাংলাদেশে শহরের কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে পাঠদান চলছে। টেলিভিশনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও সরকারের তরফ থেকে পাঠদানের চেষ্টা রয়েছে। তবে দেশে সরকারী হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের সবার পরিবার স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য রাখে না। বিশেষ করে মহামারির কারণে যেভাবে মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে বা কমে গেছে তাতে অনেকের ক্রয় ক্ষমতাও কমে গেছে।

অন্যদিকে, শিক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বহু পরিবারে টেলিভিশন পর্যন্ত নেই - বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এরকম একটি এলাকা কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন। সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এশতেয়ারা রুমা। তিনি বলেন, স্কুল খোলার পরপর তাদের হাতে একটি শ্রেণিতে যত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে তার সবকিছু পড়িয়ে শেষ করা সম্ভব হবে না।

শিক্ষায় অর্থ বরাদ্দ বিশ্বব্যাপী ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, 'সরকারের সদিচ্ছার একটা বহিঃপ্রকাশ আমরা আশা করেছিলাম বাজেটে। সেটি কিন্তু হয়নি। উল্টো বরং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম এটি প্রত্যাহার করা হবে কিন্তু তা করা হয়নি।'

রাশেদা কে চৌধুরী আরো বলেন, 'সরকার ডাটা চার্জ দিয়ে দেবে সেটি খুবই ভালো কথা কিন্তু যে খরচ বেড়েছে সেটি প্রত্যাহার প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, দেশে ৯৬ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন রয়েছে যার বড় অংশই ফিচার ফোন। যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার সম্ভব এবং তাতে রেডিও রয়েছে। সেগুলোর দাম কমানো অথবা সরকারীভাবে বিলি করার কথা বলছেন রাশেদা কে চৌধুরী যাতে সেখানে সরকারীভাবে বার্তা পাঠিয়ে এবং রেডিওর মাধ্যমে পাঠদান সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, 'শিশুরা এখন পরিবারের আয় কমে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তাসহ নানান ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। সরকারের উচিত উপবৃত্তির তালিকাটা বাড়ানো। এক পরিবারের দু'টি শিশুকে যদি উপবৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে তাদের যদি আর একটি সন্তান তাকেও এর আওতায় আনা অতি প্রয়োজন। খেতে না পারলে লেখাপড়া হবে না।'

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

এএইচ/জেইউ


oranjee