ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্পে বিপর্যয়

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৩৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

ছবি: গ্লোবাল টিভি

আনিসুর রহমান কবির, খুলনা: কয়েক বছর ধরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্পের উপর নানান বিপর্যয় শুরু হয়েছে। একের পর এক চিংড়ির পোনা উৎপাদনের বাণিজ্যিক হ্যাচারি বন্ধ হয়ে ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয় মারাত্মক পোনা সংকট। এর সঙ্গে প্রতি বছরই রয়েছে দুই থেকে তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সর্বশেষ গত সপ্তাহে অতিরিক্ত জোয়ারে খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও বাগেরহাটে ভেসে গেছে কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের। মাছের ঘের হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।

জানা যায়, করোনার মধ্যে চিংড়ি রপ্তানিতে আশোর আলো দেখলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিংড়ির উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রপ্তানিকারকরা। গত জুন-জুলাই মাসে মোংলা বন্দর থেকে নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা।

তবে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস্ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মো. আব্দুল বাকি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে উপকূলের অনেক চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আবার অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিংড়ি মিলছে না।

তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও জুন-জুলাই মাসে চিংড়ি রপ্তানি আশার আলো দেখাচ্ছে। চলতি আগস্ট মাসে রপ্তানির একই চিত্র থাকবে। তবে সেপ্টেম্বর থেকে আবারো রপ্তানি নিম্নমুখী হতে পারে। খুলনার পাইকগাছার চিংড়ি চাষী হুমায়ুন কবির জানান, গত মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনার কারণে চিংড়ির আড়ত বন্ধ থাকায় হাট-বাজারে তা কম দামে বিক্রি হয়েছে। এখন জোয়ারের পানিতে পাইকগাছা-কয়রা, শ্যামনগরের কয়েক হাজার ঘের ভেসে গেছে। ফলে মাছের ক্ষতি, পোনা ও খাবার সংকট, কর্মচারীদের বেতন- সব মিলিয়ে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন খামারীরা।

জানা যায়, এর আগে গত ২০ মে বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। আম্পানের আঘাতে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসেবে খুলনা-বাগেরহাটের মৎস্য ঘের পানিতে ডুবে যায়। চাষীদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়। তবে এসময়ও চিংড়ি চাষী ও চাষী সমিতির নেতৃবৃন্দ ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি দাবি করেছিলেন।

আম্পানের পরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চাষীরা আবারও পোনা ছেড়েছিলেন মৎস্য ঘেরে। সেই পোনা বড় হওয়ার পরে কিছুদিন ধরে বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা। এর মধ্যেই গেল পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় আবারো বাগেরহাটের কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের ভেসে যায়। জানা যায়, উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরায় প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ১০ লাখ মানুষ।

মৎস্য অধিদপ্তর খুলনার সহকারি পরিচালক এইচ এম বদরুজ্জামান বলেন, নানা কারণে চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষীরা। পরপর কয়েক বছর লোকসানের কারণে চিংড়ির বদলে অনেকে সাদা মাছ বা ধান চাষে ঝুঁকছে।

এএইচ/জেইউ


oranjee