ঢাকা, রবিবার, ১৩ জুন ২০২১ |

 
 
 
 

নিখোঁজের ২৫ দিন পর হাফেজ স্বাধীনের মরদেহ উদ্ধার

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১

ছবি- সংগৃহীত

নিখোঁজের ২৫ দিন পর মাটির নিচ থেকে হাফেজ স্বাধীনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণের টাকা আদায় করতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার হাফেজ অলিউল্লাহ স্বাধীন (১৭) নামের মাদরাসা ছাত্রকে কৌশলে নেয়া হয় বান্দরবানের লামা উপজেলায়। কিন্তু দাবিকৃত টাকা না পেয়ে খুন করা হয় তাকে। পরে মাটি চাপা দেয়া হয় মরদেহ।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাতে বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিং ঝিরি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হাফেজ অলিউল্লাহ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের মোবারক হোসেনের চতুর্থ পুত্র। সে ২০১৭ সালে বিষ্ণপুর তাওহিল আল রহমান হাফেজিয়া এতিমখানা কমপ্লেক্স থেকে কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করার পর পাগড়ি নিয়েছিল।

গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক নিহতের খালাতো ভাই ফয়েজ আহমেদ (৪০) বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া গ্রামের মৃত মালেকের পুত্র এবং অপর ঘাতক বন্ধু আরিফ (১৯) দেবীদ্বার উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের মৃত মদন খানের পুত্র।

ঘাতকরা গত ২৫ মার্চ দুপুরে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ৬নং রুপসীপাড়া ইউনিয়নের শিংঝিরি গ্রামের ১নং ওয়ার্ড ও ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানের গভীর জঙ্গলে স্বাধীনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে রাখে। ওই ঘটনার এক মাস পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে লামা থানা পুলিশ। একই সাথে ঘাতক ফয়েজ আহমেদ ও আরিফকে আটক করেছে। আটককৃতরা পুলিশের নিকট হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ মার্চ স্বাধীনকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসী পাড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা শিংঝিরিতে। এরপর তার নম্বর থেকে স্বাধীনের বাড়িতে ফোন করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় আরিফ ও ফয়েজ। এভাবে ফোনে টানা দু'দিন স্বাধীনের ফোন নম্বর থেকে কল করে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে চাপ দিতে থাকে তারা।

স্বাধীনের মা-বাবা বার বার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে না দিয়ে বলা হয়, আগে বিকাশে টাকা পাঠাও, তা না হলে স্বাধীনকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে, সে এখন আমাদের হাতে বন্দি আছে। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরে আনুমানিক ২৫ মার্চ রাতের কোনো এক সময় স্বাধীনকে আধমরা অবস্থায় শিংঝিড়ি এলাকায় মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এরপর থেকে স্বাধীনের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মোঃ জিলানী বাবু জানান, আটক ফয়েজ ও আরিফ পুলিশের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে।

লামা থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) ত্রীজিত বড়ুয়া জানান, তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোঃ ফয়েজ ও মোঃ আরিফকে গ্রেপ্তার করেন এবং তাদের তথ্যমতে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) লামার গভীর জঙ্গলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করে।

এএইচ/জেইউ


oranjee