ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১ |

 
 
 
 

সিগারেট নিয়ে তর্কে প্রাণ গেলো কিশোরের

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

তখন রাত ১১টা। পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গার পাড়ে লালকুঠি ঘাটের ১১ নম্বর কাউন্টারের সামনের ফুটপাতে বসে সিগারেট ফুঁকছিল সাজু। বিষয়টি পছন্দ হয়নি ফেরদৌস নামের আরেক কিশোর গ্যাং সদস্যের। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে উপস্থিত হয় সাজুর বন্ধু আরিফ হোসেন অনন্তসহ সাত-আটজন। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ফেরদৌসের ছুরিকাঘাতে মারা যায় অনন্ত।

জানা যায়, অনন্তর মতো বিভিন্ন কিশোর গ্যাং সদস্যরা একে অন্যের জন্য প্রাণ দিলেও তাদের পরিচয় অল্প দিনের। সোমবার ঘটনার পর অনন্তকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া বন্ধু সারোয়ার বলে, ‘অনন্তর সঙ্গে আমার ১৫ দিন আগে পরিচয় হয়। তার বাসা কোথায়, মা-বাবা কে তার কিছুই আমি জানি না। ওই দিন রাতে আমরা যারা একসঙ্গে বের হয়েছিলাম সবার সঙ্গে অল্প দিনের পরিচয়। সাজুকেও অনন্ত ভালোভাবে চিনত না।’ সারোয়ার রাতের ঘটনা উল্লেখ করে আরো বলে, ‘অনন্তসহ আমরা ৮-৯ জন নামাজ পড়ে ঘোরাফেরা করে বাসায় ফেরার পথে ফরাজগঞ্জ ঘাট দিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় অনন্ত দেখতে পায় ফেরদৌসসহ ১০-১২ জন তার এলাকার ছোট ভাই সাজুকে মারধর করছে। ওই সময় অনন্ত সেখানে প্রতিবাদ করতে এগিয়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফেরদৌস অনন্তর পেটে বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাত করে। আমরা এগিয়ে যেতে যেতে তারা পালিয়ে যায়।’

এদিকে, ছেলে হত্যার ঘটনায় অনন্তর বাবা শাহাদাৎ হোসেন বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। জানা গেছে, তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর এলাকার মতলব দক্ষিণে। অনন্ত রাজধানীর জুবিলী স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই ভাইয়ের মধ্যে অনন্ত ছিল ছোট।

অনন্ত হত্যার জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাদের বয়স ১৮ বছরের কম। কিশোর গ্যাংয়ের মারামারির ঘটনায় নিহত অনন্ত স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কয়েক দিন আগে তারা ওয়ারী ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকার আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের এক সদস্যকে মারধর করে। তখন সেটা বেশি দূর গড়ায়নি।

পুরান ঢাকার ওয়ারী, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া ও ফরাশগঞ্জ ঘুরে জানা যায়, লালকুঠি ঘাটে সন্ধ্যার পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা থেকে কিশোররা এসে আড্ডা দেয়। ফুটপাতের দোকান থেকে খেয়ে টাকা না দেয়াটা তাদের নিয়মিত বিষয়। লঞ্চ থেকে যাত্রী নামতে শুরু করলে ধাক্কাধাক্কি করাটাও তাদের রুটিন কাজ। নামহীন এমন এক ডজন গ্রুপ দাপিয়ে বেড়ায় পুরান ঢাকায়। মতের অমিল হলেই মারামারি করে তারা।

সূত্রাপুর থানার ওসি মামুনুর রহমান বলেন, ‘এরা কেন কাকে মারে নিজেও জানে না। গ্রেপ্তার আসামিদের দেখলে আপনার মনেই হবে না যে, গত রাতে একজনকে খুন করেছে।’

এএইচ/জেইউ 


oranjee