ঢাকা, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

রূপগঞ্জে প্রতারকের ফাঁদে ১৫ পরিবার : ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

গ্লোবালটিভিবিডি ২:৩৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীর মাহমুদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ১৫টি কৃষক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বিদেশে চাকুরি দেয়ার নামে প্রতারক কর্তৃক নিরীহদের কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।

শুধু রূপগঞ্জেই নয়, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওই প্রতারক চক্র প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। প্রতারকদের বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলাও রয়েছে। রয়েছে তিন বছরের সাজাও।

জানা যায়, প্রতারক চক্রের মুল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রতারকরা বিভিন্নভাবে নিঃস্ব হওয়া নিরীহদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদীসহ অভিযোগকারীরা।

প্রতারক চক্রের মুল হোতার নাম মোজাম্মেল হক হৃদয় (৪৬)। তিনি কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার দেওয়াতলী গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। বর্তমানে ঢাকা মোহাম্মদপুরের আদাবর থানার ঢাকা হাউজিং এলাকায় বসবাস করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, মোজাম্মেল হক হৃদয় ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করে সেখানে চাকুরিরত বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত মোজাম্মেল।

গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আদাবর থানা পুলিশ ঢাকা হাউজিং এলাকা থেকে প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয়কে গ্রেফতার করে।

প্রতারণার শিকার রফিজ উদ্দিন জানান, তাঁর ছেলে নাসির উদ্দিন মিয়া পড়াশুনা করতেন চীন দেশের গোয়াংজু সিটিতে। গত দুই বছর আগে সেখানে প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় নাসির উদ্দিন মিয়ার। গত দেড় বছর আগে নাসির উদ্দিন মিয়া গ্রামের বাড়ী রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন এলাকায় আসেন। পরে প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয় ঢাকার অফিসে যেতে বলেন নাসির উদ্দিন মিয়াকে। বনানী ও গুলশানে নামি-দামি অফিস ভাড়া নিয়ে নিজের বলে পরিচয় দিতেন মোজাম্মেল। অফিসে গেলে নাসির উদ্দিন মিয়াকে বলা হয়, কুয়েত আল-জাহারা মার্কিং ভার্জিনিয়া ক্যাম্পে লোক নেয়া হবে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এরপর নাসির রফিজ উদ্দিন মিয়াকে বললে তিনি সোহেল মিয়া ও আল-আমিন মিয়ার জন্য ৯ লাখ টাকা জমা দেন। এ খবর আশ-পাশের আত্মীয় স্বজনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তারাও তাদেরকে বিদেশে পাঠানোর জন্য অনুরোধ পরে। এভাবে কাঞ্চন এলাকার সোহেল মিয়া, আল-আমিন মিয়া, আরমান, মিলন, সমির বর্মণ, সজিব চন্দ্র বর্মণ, দয়াল বর্মণ, সবুজ, ইসমাইল, সোহানুর ভুঁইয়া, মুহাইমিন, জামান, ইছরাফিল, সোনারগাঁয়ের টুটুল চন্দ্র বর্মণ ও ভোলাব এলাকার মানিক মিয়া পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মাধ্যমে ৪২ লাখ টাকা দেয় প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয়কে। টাকা নেয়ার পর থেকেই প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয় ওই ১৫ জনকে বিদেশে না নিয়ে গা ঢাকা দেয়।

ঘর-বাড়ি, জমি-জমা বিক্রি ও ধার-দেনা করে টাকা দিয়ে বিদেশে না যেতে পেরে এসব পরিবার এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রতারণার অভিযোগ এনে সোহেল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি ও নাসির উদ্দিন মিয়া বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দু'টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয়।

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে ৭০ জনের কাছ থেকে এমন করেই বিদেশ নেয়ার নামে নিরীহদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে বলে তার নামে প্রতারণার মামলা রয়েছে। কুমিল্লার আদালতে প্রতারণার মামলায় (মামলা নং-১১২/১০) তিন বছরের সাজাও হয়েছে মোজাম্মেল হক হৃদয়ের বিরুদ্ধে। বনানি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাও রয়েছে তার। বনানী এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগে এসআই আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন। বিদেশে লোক পাঠানোর নামে কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি করে প্রতারণার অভিযোগে বনানি থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার বাদী হলেন পুলিশ পরিদর্শক মাসুদুর রহমান। মামলা রয়েছে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানায়ও, মামলা নং-১৬, তাং ২৩/০৬/২০০৯। প্রতারক মোজাম্মেল হক হৃদয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের শেষ নেই।

এসব ঘটনার বিষয়ে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিতরা।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, যেহেতু অভিযুক্ত আসামী গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেহেতু ওই আসামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আদালতে উত্থাপন করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন আদালত। 

এএইচ/জেইউ 

 


oranjee