ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

বাতি নিভিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ৩ কিশোরকে: তদন্ত প্রতিবেদন

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) তিন কিশোর হত্যা ঘটনার জন্য ওই কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্যা আল মাসুদকেই দায়ী করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। ওই দিন বাতি নিভিয়ে ওই কিশোরদের নিমর্মভাবে পেটানো হয়। এ সময় তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে রাখা সিসিটিভির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

গত মঙ্গলবার রাতে ই-মেইলের মাধ্যমে ২৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেয় তদন্ত কমিটি। ওই প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের কারণ, এর জন্য দায়ী কারা এবং পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত ছিল কিনা—এমন তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। এতে ১০ দফা সুপারিশের পাশাপাশি আটটি পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় আরো ১৫ জনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় মারা যাওয়া কিশোর পারভেজ হাসানের বাবা রোকা মিয়া গত ১৪ আগস্ট রাতে বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আসামি করা হলে পরে তত্ত্বাবধায়কসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তার দেখানো হয় সংশোধনের জন্য কেন্দ্রে থাকা আরো আট কিশোরকেও।

১৪ আগস্ট যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক অসীত কুমার সাহা।

অন্যদিকে, সমাজসেবা অধিদপ্তর গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির বিষয় উঠে আসে।

তদন্ত কমিটির প্রধান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, ২৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে আটটি পর্যবেক্ষণ ও ১০টি সুপারিশ আছে।

১০ দফা সুপারিশে বলা হয়েছে, হেফাজতে থাকা শিশুদের নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য শিশুবান্ধব প্রশিক্ষিত নিজস্ব গার্ডের (কারারক্ষী) সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। যশোরের পুলেরহাটে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) ১৫০ শিশুর জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রায় সময় ২৫০-এর বেশি শিশু-কিশোর অবস্থান করে। আটক শিশুর সংখ্যা বেশি হলেও নিজস্ব গার্ডের সংখ্যা মাত্র চারজন যা আটক শিশুদের তুলনায় অপ্রতুল। কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বের জন্য সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন করে কারা অধিদপ্তরের আদলে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ গঠন এবং এ সংক্রান্ত আইন, বিধি প্রণয়ন করা যেতে পারে। ১৮ বছরের বেশি কোনো কিশোর যাতে কেন্দ্রে অবস্থান করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। শিশুদের বয়স প্রমাণে মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থা করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএইচ/জেইউ


oranjee