ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

সাংবাদিক নান্নুর মৃত্যু : স্ত্রী-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে ভাইয়ের মামলা

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক যুগান্তরের অপরাধ বিভাগের প্রধান মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ভাই একটি হত্যা মামলা করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে নান্নুর স্ত্রী শাহিনা হোসেন পল্লবী এবং শ্বাশুড়ি মোসাম্মৎ শান্তা পারভেজকে।

সোমবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাড্ডা থানার ওসি মো. পারভেজ ইসলাম জানান, নান্নুর আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনাকে তার বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম খোকন হত্যা বলে দাবি করে বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বাদী নজরুল ইসলাম খোকন উল্লেখ করেন, আমার ছোট ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু তার স্ত্রী শাহিনা হোসেন পল্লবীর সঙ্গে আফতাবনগরের জহিরুল ইসলাম সিটির ৩ নম্বর সড়কের বি ব্লকের ৪৪/৪৬ নম্বর বাসার দশম তলায় বসবাস করত। গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৩টার সময় আমার ছোট ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন সকাল ৮ টায় মারা যায়।

ঘটনার সময় আমি নড়াইলের কলোরায় নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। আমি আমার মেজো ভগ্নিপতি আনসার হোসেনের কাছ থেকে নান্নুর অগ্নিদগ্ধের খবর পাই।

এজহারে আরো উল্লেখ করেন, এও জানতে পারি নান্নুর অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাটি রহস্যজনক। ঘটনার সময় নান্নুর স্ত্রী ছাড়াও তার শ্বাশুড়ি শান্তা পারভেজও ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। আমরা আরো জানতে পারি, নান্নু গত ১১ জুন রাত ১ টার দিকে বাসায় ফেরে। বাসায় ফেরার পর স্ত্রী পল্লবীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই বাসায় আগুন লাগে। নান্নু দগ্ধ হয়ে নিজে পাইপ এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তার স্ত্রী ও শ্বাশুড়ি আগুন নেভানোর চেষ্টা করেনি এবং নান্নু নিজেই ১০ তলা থেকে হেঁটে নিচে নামে। সেখানে আশপাশের ফ্ল্যাট মালিকরা নান্নুকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমার মেজো ভাই ইকবাল হোসেন বাবলু ও ভাগ্নে সাজ্জাদ হোসেন টিপু একটি ভাড়া গাড়িতে ঢাকায় আসে। তারা হাসপাতালে যেতে চাইলে পল্লবী ও তার অফিসের জনৈক সিইও তাদের হাসপাতালে যেতে নিষেধ করেন। পরে তারা হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় যান। নান্নু মারা যাওয়ার পর আমাদের না জানিয়ে তাঁর স্ত্রী সেখানে উপস্থিত পল্লবীর প্রতিষ্ঠানের সিইও পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি কালো রংয়ের পাজেরো গাড়িতে করে তার নিজ গ্রামের বাড়িতে যায়। ওই সিইও’র সহযোগিতায় নান্নুর বিনা ময়না তদন্তের লাশ পল্লবী তার বাড়ি যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানার ভাঙ্গুরা গ্রামে দাফন করেন।

এজহারে উল্লেখ করা হয়, আমার মেজো ভাই ইকবাল হোসেন বাবলুসহ আত্মীয়-স্বজনরা লাশ দেখতে চাইলে তাদের দেখতে দেয়া হয়নি। আমি লোক মারফত আরো জানতে পারি, নান্নু হাসপাতালে থাকার সময় তার স্ত্রী পল্লবী মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভোর চারটার সময় স্যুপ খাওয়ায় নান্নুকে। আর সেই স্যুপ পল্লবীর অফিসের জনৈক সিইও সাহেবের বাসা থেকে রান্না করে আনা হয় বলে জানতে পেরেছি।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন রাজধানীর আফতাবনগরের নিজ ফ্ল্যাটে রহস্যজনকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন নান্নু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর দিন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নান্নুর স্ত্রী শাহীনা হোসেন পল্লবী বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার ছয় মাস আগে গত ২ জানুয়ারি একই বাসায় বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তাদের একমাত্র সন্তান সঙ্গীত পরিচালক স্বপ্নীল আহমেদ পিয়াস।

এমএস/জেইউ


oranjee