ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

 
 
 
 

মারা গেছেন সন্ত্রাসীদের হাতে পা হারানো সেই মোবারক

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সন্ত্রাসীদের হাতে পা হারানো মোবারক মিয়া(৪৫) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

গত ১২ ই এপ্রিল নবীনগরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাজিরহাটি গ্রামে দাঙ্গাবাজরা মোবারকের বাম পা গোড়ালীর ওপরের অংশ থেকে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে। এরপর কাটা পা হাতে নিয়ে আনন্দ মিছিল করে।  এসময় ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে উল্লাস করে সন্ত্রাসীরা।

পরিবারের লোকজন জানান- তাঁর ডান পা-ও কুপিয়ে আলাদা করার চেষ্টা হয়। দুই হাত এবং পিঠেও বেশ কয়েকটি কোপ দেয়া হয়।  গুরুতর আহত অবস্থায় ৪দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা যান মোবারক।

ঘটনার পরপরই তাঁকে কোপানোর সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন মোবারক। তাঁরা হচ্ছেন, থানাকান্দি হাতবাড়ি গ্রামের সিরাজের ছেলে খোকন, হাজিরহাটি গ্রামের মাঈনুদ্দিনের ছেলে রুমান, জিল্লুর ছেলে শাহিন ও মালির ছেলে জাবেদ।

বাকীদের তিনি চিনতে পারেননি বলে জানান। তাঁর এই বক্তব্যের মোবাইলে করা ভিডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মোট ১২/১৩ জন জড়িত বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঢাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী মোবারক
করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে এসেছিলেন। গ্রামে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।

মোবারকের স্ত্রী সাবিয়া জানান- তাঁর সামনেই মোবারককে মাটিতে সোজা করে শুইয়ে ফেলে কোপানো হয়। এসময় ঘটনাস্থলের কাছে ৩০/৪০ জন পুলিশ অবস্থান করছিলো। তিনি পুলিশের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন সাহায্যের জন্যে। তাঁর স্বামীকে মেরে ফেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁকে উল্টো ধাওয়া দেয়।

মোবারক গ্রামের কোন ঝগড়া-দলাদলিতে ছিলেননা বলেও জানান তাঁর স্ত্রী। তাঁর জন্ম এবং বিয়েশাদী সব ঢাকাতেই। বছর চারেক আগে পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে আসেন মোবারক। কিন্তু গ্রামের পরিস্থিতির কারণে এর মধ্যে দেড়বছর শ্বশুর বাড়িতে কাটাতে হয় তাঁকে । পরে আবার ঢাকায় চলে যান রিকশা চালাতে।

এএইচ


oranjee

আরও খবর :