ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ২০ শ্রাবণ ১৪২৭

 
 
 
 

ধর্ষককে সিরিয়াল কিলার ভেবে নাম-পরিচয় গোপন করে প্রাণে বেঁচেছেন নির্যাতিত ছাত্রী!

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০২০

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে উত্তরার দিকে ১০০ গজ যেতেই ফুটপাতের সৌন্দর্য বর্ধনের ফুল গাছের ঝোঁপে পড়ে ছিল একটি হাতঘড়ি, চাবির রিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাগজপত্র, জুতা ও ফাইল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। পড়ে ছিল ইনহেলার, একটি কালো জিন্স প্যান্ট।

এখানেই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্রী। ঘটনাস্থল দেখে পুলিশ বলছে, নিজেকে বাঁচাতে প্রবল চেষ্টা করেছেন ওই ছাত্রী।

আর, সেই স্থানে কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা পাওয়া গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের কাছ থেকে।

ধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থীর সঙ্গে রাতে হাসপাতালে ছিলেন ড. সাদেকা। এ বিষয়ে তিনি এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীর বন্ধুরা গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। তাঁদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নামার পর থেকে শেওড়ার যে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন তিনি (ছাত্রী), সেই বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সময় লাগে মোট সাড়ে ৩ ঘণ্টা।

এই সময়ের মধ্যিই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঠিক কতক্ষণ তিনি জ্ঞান হারিয়েছিলেন তা বলতে পারেননি, তবে জ্ঞান ফিরে আসার পর বুঝতে পারেন, ঘণ্টাদুয়েক পার হয়েছে এবং ধর্ষক তখনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।

ঘটনার বিবরণে ভিকটিম কী বলেছেন, এ বিষয়ে সাদেকা হালিম বলেন, মেয়েটির সামনে পরীক্ষা। স্টাডি সার্কেলে পড়ালেখা করে শিক্ষার্থীরা। সে কারণেই বান্ধবীর বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। তার সঙ্গে বাড়তি পোশাক ছিল, পড়ালেখার বই-নোটস আর প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস ছিল। মেয়েটির বিবরণীতে ধর্ষক একজনই ছিল।

ধর্ষক কেমন ছিল, এ বিষয়ে অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, মেয়েটির কাছে মনে হচ্ছিল, লোকটি সিরিয়াল কিলার। ঠাণ্ডা মাথায় যে ধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে একাধিকবার এবং মেয়েটিকে জোর করে পোশাকও পরিবর্তন করিয়েছে, আবার ধর্ষণ করেছে।

ভিকটিম জানিয়েছেন, ধর্ষক তার পরিচয় জানতে চেয়েছে বারবার। মেয়েটি আন্দাজ করছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় পেলে তাকে মেরে ফেলা হতে পারে। তাই তিনিমুখ খোলেননি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা গণমাধ্যমে বলেন, কিছুদূর হেঁটে সে (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) চেষ্টা করেছে সিএনজি বা গাড়ি থামাতে। না পেরে রাস্তা পার হয়ে বন্ধুর বাসায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন রাত সাড়ে ১০টা। মেয়েটির বয়স কম। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। প্রচণ্ড শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, শরীরের নানা জায়গায় দাগ। মেয়েটি বেঁচে আছে অনেক ব্যথা নিয়ে। অসম্ভব মানসিক শক্তি ছিল বলে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সে ওখান থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছে।

এএইচ


oranjee