ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

 
 
 
 

দ্বিতীয় পর্ব

রেলে চাকুরি দিয়ে অভিনব কায়দায় প্রতারণা

গ্লোবালটিভিবিডি ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

আটক করা হয় প্রতারকচক্রের হোতাকে

আনিসুর রহমান: বাংলাদেশ রেলওয়েতে সরকারি চাকুরির আশায় লাখ লাখ টাকা দিয়ে নিজের সর্বস্ব হারিয়েছেন অনেকেই। এমন অভিযোগ আসে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। তাদের কথায় এটা স্পষ্ট যে, দালাল যে টাকা নিয়ে তাদের রেলে চাকুরি দেয়নি সেটি কিন্তু নয়। তারা সবাই নিয়মিত রেলে চাকুরি করছেন। তাদের পোস্টিংও হয়েছে দেশের বিভিন্ন রেল ষ্টেশনে, পাবনা আউটসোর্সিং কোম্পানী প্রাইভেট লি. নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে। মাস শেষে দুয়েকজন আংশিক বেতন পেলেও, বেশিরভাগই এখনো বেতন পাননি। তাই অনেকটাই দুশ্চিন্তাই ও সংশয়ে পড়েছেন তারা। গ্লোবাল টিভি অনলাইনের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ দ্বিতীয় পর্ব -

বাংলাদেশ রেলওয়েতে সরকারি চাকুরি দেয়ার নামে ভবিষ্যতে আর প্রতারণা করবে না বলে গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধান দলের কাছে ক্ষমা চান প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যরা। যখন গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধানী দল অফিসটিতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও কাগজপত্র খুঁজতে ব্যস্ত, এ সুযোগে একে একে পালিয়ে যায়, প্রতারক চক্রের সদস্যরা। তবে এখানেই থেমে থাকতে চাই না গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধানী দল, যেতে চায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। তাই এসব বিষয়ে কথা বলতে সরাসরি রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের মুখোমুখি হয়।

মন্ত্রী সমস্ত ঘটনা শুনে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেন। তিনি প্রতারক চক্রের সবাইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে বলেন। সেই সাথে গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধানী দলকে এ অভিযান সফল করতে সর্বাত্মক সহায়তা করতে বলেন রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা পাওয়ার পর গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধান দলকে সমন্বয় করে, বাংলাদেশ রেল পুলিশ প্রধান মহসিন হোসেন ও ঢাকা জেলা রেলওয়ের এসপি সাইফুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে প্রতারক চক্র ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

এরই মধ্যে প্রতারক চক্রের কাছ থেকে ফোন আসে গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধানী দলের কাছে। নিউজ না করার জন্য ও তাদের অফিস থেকে সংগ্রহ করা কিছু ডকুমেন্টস ফেরত দিতে বলেন চক্রটির এক সদস্য। এজন্য গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধানী দলকে পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার অফারও করেন।

প্রতারক চক্রের করা এ অফারে গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধানী দল সম্মতি জানালে, প্রতারক চক্রটি সকাল ৯টায় রাজধানীর গুলশানের গুদারাঘাট এলাকায় আসতে বলেন গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধানী দলের সদস্যকে। পরের দিন যথাসময়ে গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধানী দলের সদস্য হাজির গুলশানের গুদারাঘাট এলাকায়। আর দূর থেকে নজর রাখেন কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হোসেনের নেতৃত্বে সাব ইন্সপেক্টর মির্জাসহ সিভিল ড্রেসের একদল পুলিশ সদস্য।

প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর প্রতারক চক্রের সঙ্গে দেখা হয় অনুসন্ধানী দলের সদস্যদের। অনুসন্ধানী দলের দুই সদস্যকে নিয়ে যাওয়া হয় গুদারাঘাটে থাকা সরকার দলীয় নাম স্বর্বস্ব পার্টি অফিসে। সেখানে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রথমেই গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধানী দলের সদস্যদের গালিগালাজ করেন ও ভয়-ভীতি দেখান। এরপর ব্যাগে থাকা তাদের ডকুমেন্টস রিসিভ করেন ও কথানুযায়ী পাঁচ লাখ টাকার খামটি অনুসন্ধানী দলের সদস্যদের দেখিয়ে ব্যাগে রাখেন।

পরে সিভিল ড্রেসে থাকা পুলিশ সদস্যরা এসে সেই টাকার খামটি ব্যাগ থেকে বের করেন, যেখানে টাকার পরিবর্তে ছিল শুধু কাগজ।

এসময় এলাকাবাসী জানান, নাম সর্বস্ব এই পার্টি অফিসে প্রতারক চক্রটির বেশ আগে থেকেই আনাগোনা ছিলো। পরে প্রতারক সদস্যদের গ্রেফতার করে কমলাপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়।

এদিকে গ্লোবাল টিভি অনুসন্ধান দলের কাছে খবর আসে, প্রতারক চক্রটির মূল হোতা অবস্থান করছেন পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায়। সেখানে চাকুরী প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকা নেয়ার কথা রয়েছে তার। এসব টাকা নিয়ে দু-একদিনের মধ্যেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে প্রতারক চক্রের মূল হোতার। তাই এবার সময় নষ্ট না করে অনুসন্ধানী দলের যাত্রা পাবনার ঈশ্বরদীতে। ট্রেনে ওঠার পরপরই অনুসন্ধানী দলের কাছে ফোনে খবর আসে, প্রতারক চক্রটির মূল ঘাঁটি পাবনা এলাকায়। চক্রটির বেশ শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনীও নাকি রয়েছে। অনুসন্ধানী দলের সাথে এবার পুলিশ না থাকায় বেশ সতর্কতার সাথে কাজ করা পরিকল্পনা করে গ্লোবাল টিভির অনুসন্ধান দলের সদস্যরা।


এআর/এমএস


oranjee