ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

 
 
 
 

সম্রাট আতংকে ভিআইপিরা!

আটক নিয়ে সহসাই ধোঁয়াশা কাটছেনা, অসুস্থ স্বামীর জন্য স্ত্রীর মর্মস্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০১৯

ফাইল ছবি

মোয়াজ্জেম হোসেন নাননু : ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন- এমন তথ্যে আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক নেতার মধ্যে। একই অবস্থা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তারও। বিশেষ করে যুবলীগের এ নেতার কাছ থেকে যারা বিভিন্ন সময়ে সুবিধা নিয়েছেন তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক ভর করেছে। কারণ যুবলীগ নেতা সম্রাট গত দশ বছরে শুধু দক্ষিণ যুবলীগের নেতৃত্ব দেননি ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। দলীয় কর্মসূচির বাইরে কোন নেতা ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানালে যুবলীগের এ নেতা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গেও তার লেনদেনও ছিল। গ্রেফতার হলে যুবলীগের এ নেতা সবার নাম ফাঁস করে দিতে পারেন- এমন আতংকে রয়েছেন অনেকে। এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে আটকের বিষয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটছে না। চারদিকে গুজবের ডালপালা বেড়েই চলেছে।

বিশেষ করে গত শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে যুবলীগের এ নেতার গ্রেফতারের খবরটি এখনও `টক অব দ্য কান্ট্রি‘। ওই দিন রাতে বনানী এলাকা থেকে যুবলীগ নেতা সম্রাট গ্রেফতার হয়েছেন বলে চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে। গণমাধ্যমকর্মীরা খবরটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। ডিবি কার্যালয়, ডিএমপি সদর দফতর ছাড়াও র‌্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত (১ অক্টোবর) সম্রাটকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। এর মধ্যে শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) একটি পাঁচ তারকা হোটেলে একটি অনুষ্ঠান শেষে যুবলীগ নেতা সম্রাটের আটক প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সরাসরি প্রশ্নের উত্তরা দিয়ে বলেন, ‘অপেক্ষা করেন, যা ঘটবে তা দেখতে পারবেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যে গুঞ্জন আরো জোরালো হয়। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তারাও মুখ খুলছেন না। তবে না প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক কর্মকর্তা গ্লোবালটিভিবিডিকে বলেছেন, আটক নয়, কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছেন সম্রাট। তার চলাফেরাসহ সব প্রকার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এর মানে গৃহবন্দি কিনা-এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন ওই কর্মকর্তারা। তবে আজ/কালের মধ্যে বিষয়টি খোলাসা হবে বলে এসব কর্মকর্তারা বলেছেন।

যুবলীগের এক নেতা গ্লোবালটিভিবিডিকে বলেছেন, সম্রাট সাহায্য করেননি আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের এমন নেতার সংখ্যা খুব কম। দলীয় নেতা ছাড়াও প্রশাসন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও সব সময় সহযোগিতা নিয়েছেন। কখনও নির্বাচনের অজুহাতে, কখনও সাংগঠনিক কাজে বা কখনও একান্ত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যুবলীগ নেতা সম্রাটের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন। এসব সহযোগিতা যে একেবারে নিস্বার্থ ছিল এমনটিও নয়। বিনিময়ে যুবলীগের এ নেতার প্রতি সহযোগিতা নেয়া এসব নেতারা সব সময় সদয় ছিলেন। আর এ কারণেই দিনে-দিনে সম্রাট হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরোধ্য।

ওই নেতা আরো বলেন, সম্রাটকে ছাড়া ঢাকা মহানগরীতে জনসমাগম করা অসম্ভব ব্যাপার, সংগঠন চালানো সম্ভব নয়। ঢাকা মহানগরীতে আওয়ামী লীগের জনসভা করার জন্য সম্রাট ছিলেন অপরিহার্য। সম্রাট ছাড়া যেন জনসভায় লোক সমাগম করা যায় না। ক্যাডার রাজনীতি করার কারণে সম্রাটের নেটওয়ার্ক ছিল তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। ক্যাসিনোর টাকা তিনি তৃণমূল পর্যন্ত দেদারসে বিলিয়েছেন বলে দাবি করেন ওই যুবলীগ নেতা।

এদিকে যুবলীগ নেতা সম্রাটের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত এবং যারা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বা টেন্ডারবাজি, দখল বাণিজ্য ও নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারাও রয়েছেন গোয়েন্দা নজরদারিতে। গত কয়েকদিনে তাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে গ্রিন সিগন্যাল মিললেই তাদের ব্যাপারে অ্যাকশানে যাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্ত্রী শারমিন সম্রাট চৌধুরী সোমবার দুপুর ২টা ৪১ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি মর্মষ্পর্শী পোস্ট দিয়েছেন। পেষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘এ মাসেই সম্রাটের ডাক্তার দেখানোর কথা ছিল। উনি একজন ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী। অসুস্থ অবস্থায় তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। সকল নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন সম্রাটের সুস্থতার জন্য। তিনি পোষ্টে লিখেছেন, যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট প্রধানমন্ত্রীর দুর্দিনের কর্মী। দলের দুর্দিনে রাজপথ কাঁপিয়ে দলকে শক্তিশালী করে রেখেছিলেন এই নেতা। কিন্তু আজকে দলের সু-দিনে কিছু স্বার্থন্বেষী মহল রাজনৈতিক নেতা এবং মিডিয়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ এনে অপরাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তিনি তাঁর স্বামীর জন্য সকলকে দোয়া করার পাশাপাশি এ অপচেষ্টার হাত থেকে রক্ষার আবেদন জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর ক্যাসিনোগুলোতে অভিযান শুরু করে র‌্যাব-পুলিশ। ওইদিনই ঢাকার মতিঝিলের ফকিরাপুল ইয়াংমেনস ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্রে র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো মেলার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনায় যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। সেদিনই গ্রেফতার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। পর দিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেফতার করা হয় কৃষক লীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় ঠিকাদার জিকে শামীমকে, যিনিও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয় দুই সহোদর গে-ারিয়া থানা থাওয়ামীলীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনু তার ছোট ভাই ও একই দলের যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূইয়া। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে কোটি-কোটি নগদ টাকা, বিদেশি মুদ্রা, এফডিআর. স্বর্ণালংকার, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে।

এমএইচএন/এমএস


oranjee

আরও খবর :