ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

ঢাকা ওয়াসার ৪৪৫ কোটি টাকা উধাও

সমবায় সংগঠনের নামে করা এই ৪৪৫ কোটি টাকা উধাও হওয়ার বিষয়টি জেনেও চুপ থাকছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা ওয়াসা থেকে উধাও হয়ে গেছে ৪৪৫ কোটি টাকা। সমবায় সমিতির নামে রাখা  এই টাকা অন্য দু'টি ব্যাংকের একাউন্টের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হয়  গত আট বছরে।  অভিযোগ উঠেছে, ২০১৯ সালে বিষয়টি নজরে এলেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি  ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের কর্তা হিসেবে এর দায় এড়াতে পারেন না এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

ঢাকার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এই দুর্নীতির ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দেওয়া একটি চিঠি থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল দেয়া সেই চিঠিতে ওয়াসার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ৪৪৫ কোটি টাকার হিসেব চান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। এর আগেই ঢাকা ওয়াসা বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে পিপিআই প্রকল্পের ২০১০-'১১ অর্থ বছর থেকে ২০১৮-'১৯ অর্থ বছর পর্যন্ত প্রায় ৪৪৫ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চিঠিতে বলা হয়, এত বিশাল টাকা কোন একাউন্টে জমা হয়েছে, কোন কোন ব্যক্তির কাছে গিয়েছে তা জানা জরুরী।

ওয়াসার সেই বহুমুখী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সামসুজ্জামান টেলিফোনে বলেন, আমি অল্প দিন দায়িত্বে ছিলাম। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাব-পত্র বুঝে নিয়ে দুই বছর যাবত ব্যাংকসহ সবকিছু ক্লোজ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছেন। 

তিনি আরো বলেন, আমি কিছু জানি না। ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। অনেক পরে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। ওই টাকার কোনো সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রথমেই দপ্তর প্রধান সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তহবিল আত্মসাৎ করার বিষয়টি যদি প্রমাণিত হয় তাহলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে পাঠানো যেতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেরই অভিযোগ, পছন্দের লোক জড়িত থাকায় বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আর উচ্চবাচ্য করেননি তাকসিম এ খান।

এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করলেও এড়িয়ে গেছেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এমনকি এই অনিয়ম বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে ঢাকা ওয়াসা প্রধান কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি সংবাদ মাধ্যমকে। সুত্রঃ যমুনা টিভি।

জেইউ


oranjee