ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

 
 
 
 

জনি হত্যা : ৩ পুলিশের যাবজ্জীবন

গ্লোবালটিভিবিডি ৬:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২০

ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে পুলিশ হেফাজতে জনি নামে এক আসামির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে পুলিশের এসআই জাহিদসহ তিন সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া রায়ে পুলিশের দুই সোর্সকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম রায় ঘোষণা হলো।

আজ (বুধবার) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- পল্লবী থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ও এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এই তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে বাদীকে দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাত বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোর্স সুমন ও রাশেদ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ। নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।

২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় সুমনকে নিহত জনি ও তার ভাই সেখান থেকে চলে যেতে বললে সে পুলিশকে ফোন দেয়। পরে পুলিশ এসে জনিকে আটক করে। এ সময় স্থানীয়রা পুলিশকে ধাওয়া দিলে তারা গুলি ছোঁড়ে।

আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের এক পর্যায়ে জনির অবস্থার অবনতি হয়। এ সময় তাকে প্রথমে ন্যাশনাল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জনির মৃত্যুর ঘটনায় ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হোসেন তিন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওসি জিয়াউর রহমানসহ পাঁচজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও এএসআই রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুকে প্রতিবেদনে নতুনভাবে অভিযুক্ত করা হয়।

২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। অভিযোগ গঠনের পর প্রায় সাড়ে চার বছরে এ মামলার বিচার কাজ শেষ হয়।

এমএস/জেইউ


oranjee

আরও খবর :