ঢাকা, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

বাংলা একাডেমি দায় এড়াতে পারে না

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

ফাইল ছবি

শাহ্জাহান কিবরিয়া : সম্প্রতি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি বাংলা একাডেমির কাছে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশন সমিতির সদস্য ব্যতীত অন্য কোন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ না দেয়া।’ উল্লিখিত সমিতি দু'টির বাইরেও একাধিক পুস্তক প্রকাশক রয়েছেন যাঁরা সমিতির সদস্য নন। বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য সমস্ত প্রকাশককে বিশেষ কোনো সমিতির সদস্য হতেই হবে—এমন কোনো সরকারি নির্দেশনা আছে বলে জানা নেই। বাংলা একাডেমির উদ্যোগেই প্রতি বছর 'অমর একুশে বইমেলা' অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলা একাডেমি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। একাডেমি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতেই একুশে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই নীতিমালা মেনে নিয়ে যেসব প্রকাশক বই বিক্রি করবেন তাঁরা সবাই মেলায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ পাবেন। জনগণ ও সরকারের কাছে দায়বদ্ধ বাংলা একাডেমি কোনো অগণতান্ত্রিক আবদার গ্রহণ করতে পারে না।

বই বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন প্রকাশকরা। স্বল্পসংখ্যক লেখক ছাড়া বেশিরভাগ লেখক প্রকাশকদের কাছ থেকে বইয়ের রয়ালটি পান না। প্রকাশকদের বেশিরভাগ নবীন লেখকদের সঙ্গে চুক্তিপত্রও সম্পাদন করেন না। বই প্রকাশের জন্য প্রকাশক কাগজ ক্রয় করতে পারেন, বই বাঁধাতে পারেন, প্রেসের খরচও দিতে পারেন। অথচ একজন স্বল্প পরিচিত কিংবা নবীন লেখকের রয়ালটি পরিশোধ করতে কুণ্ঠিত থাকেন! চিত্তরঞ্জন সাহাকে দেখেছি নবীন লেখকদের অগ্রিম অর্থ প্রদান করে তাদের কাছ থেকে পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে। চিত্তবাবু প্রকাশনা শিল্পকে জনসেবা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাই প্রকাশনা শিল্পের প্রসঙ্গ এলে বারবার তাঁর নাম উচ্চারিত হয়।

নবীন লেখকদের স্বার্থে একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন থাকবে, একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণের আবেদনপত্র জমা নেয়ার সময় লেখকের সঙ্গে প্রকাশকের সম্পাদিত চুক্তিপত্রের কপিও জমা নেয়া। কোনো প্রকাশক রয়ালটি প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট লেখকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমি কর্তৃপক্ষ ঐ প্রকাশনা সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করে পরবর্তী বছরের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করবেন—এ প্রস্তাব একাডেমির নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হলে লেখক বিশেষ করে নবীন লেখকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। লেখকদের স্বার্থ সংরক্ষণের দায় বাংলা একাডেমি এড়াতে পারে না।

এএইচ/জেইউ 

 


oranjee