ঢাকা, রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ |

 
 
 
 

মেলায় কলিন রড্রিকের নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক আয়না’

গ্লোবালটিভিবিডি ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে তরুণ কবি কলিন রড্রিকের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক আয়না’। বইটি প্রকাশ করেছে শুদ্ধ প্রকাশ। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ৭০২ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। ৪৮ পৃষ্ঠার বইটিতে স্থান পেয়েছে ৩৯টি কবিতা। রাজীব দত্তের চমৎকার প্রচ্ছদে বইটি ইতোমধ্যে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বুধবার লেখকের সঙ্গে কথা হয় তার লেখালেখি, নতুন বই ও বইমেলা প্রসঙ্গে যা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

সাহিত্যে এলেন কেন এবং কিভাবে?
কলিন: সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক কৈশোর থেকেই। মূলত আমার মা-বাবা দুজনেই সাহিত্যপ্রেমী। তবে শিল্প-সাহিত্যের প্রতি ঝোঁকটা মা-র ছিল বেশি। শিল্প-সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসাটা ছোটবেলায় মা-ই বুনে দিয়েছিলেন অন্তরে।

মেলায় এবার কী বই আসছে?
কলিন: কবিতার বই। নাম ‘অলৌকিক আয়না’।

নতুন বই সম্পর্কে বলুন
কলিন : ‘অলৌকিক আয়না’ আমার প্রথম কবিতার বই। বইটি প্রকাশ হয়েছে শুদ্ধ প্রকাশ থেকে। প্রচ্ছদ করে দিয়েছেন রাজীব দত্ত। বইটিতে মোট ৩৯টি কবিতা আছে।

গ্রন্থবদ্ধ লেখাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে যদি বলেন…
কলিন: ‘অলৌকিক আয়না’-র কবিতাগুলো মূলত একবিংশ শতাব্দীর প্রতিনিধিত্ব করে। একটু বুঝিয়ে বলি, কবিতাগুলো রচিত হয়েছে একবিংশ শতাব্দীতেই। এই সময়কালটা আমার কাছে খুবই পরিবর্তনশীল মনে হয়। যুদ্ধ-বিগ্রহ, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, একইসাথে তথ্য-প্রযুক্তির আধিপত্য খুব দ্রুতই চোখের সামনে ঘটে চলেছে কিন্তু এসবের অন্তরালে ব্যক্তি মানুষের না বলা কথা আছে, গল্প আছে, প্রেম আছে, বিরহ আছে, হতাশা আছে। সময়ের সুতো ধরে ‘অলৌকিক আয়না’য় আমি সেটাই বুননের চেষ্টা করেছি। জানি না কতটুকু পেরেছি।

আপনার কবিতার পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি
কলিন : পাঠককে সব সময় আমি উচ্চ আসনে রাখি। কারণ, পাঠকের ভালো লাগা, খারাপ লাগা একজন লেখককে সংশোধনের সুযোগ দেয়।

বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?
কলিন : স্বাভাবিকভাবেই বইমেলার প্রতি পাঠক, লেখক সবারই আলাদা টান থাকে। পাঠক সমাবেশও হয় চোখে পড়ার মতো। এমন না যে, বছরের অন্য সময় বই প্রকাশ করা যাবে না। যেহেতু ‘অলৌকিক আয়না’ আমার প্রথম বই। তাই সবদিক ভেবে এই সময়টাই উপযুক্ত মনে হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে মেলা সম্পর্কে আপনার ভাবনা জানতে চাই
কলিন : বইমেলা অবশ্যই খুবই তাৎপর্যপূর্ণ আমাদের সাহিত্য অঙ্গনে। পাঠক-লেখকের মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মেলা নিয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা
কলিন : উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। তবে গত এক যুগ ধরে মেলায় নিয়মিত আসি। বইমেলার পরিসর যেমন অনেক বেড়েছে, সাথে বেড়েছে পাঠকের আনাগোনাও। বইয়ের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা সত্যিই প্রশংসনীয় যদিও অনেকে ঘুরতে আসেন। এভাবেও কিন্তু অনেক পাঠক তৈরি হয়ে যায়।

লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কিভাবে
কলিন : কবিতা লেখার শুরু আমার কৈশোর থেকেই। প্রথমদিকে একটা সময় জীবনানন্দ দাশ, রবার্ট ফ্রস্ট, জন কিটস- এঁদের কবিতা দ্বারা প্রভাবিত ছিলাম। ধীরে ধীরে অন্যান্য কবি ও সাহিত্যিকের লেখা পাঠ করে সেই প্রভাবটা কাটিয়ে উঠেছি। তবে আমার মনে হয় একজন কবি বা সাহিত্যিকের প্রেরণা বা প্রভাব যাই বলি না কেন- আসে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন মাধ্যমে। একইসাথে সম-সাময়িক ঘটনা, অভিজ্ঞতা ও মনের পরিপক্বতাও বড় ভূমিকা রাখে।

আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে বলুন…
কলিন : আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক। কারণ আমার মনে হয় যে জাতি বই পড়ে না, সেই জাতির মানবিক মূল্যবোধ কমে যেতে থাকে। আর আমরা সবাই জানি, বর্তমানে বিশ্বে মানবিক মূল্যবোধের প্রবল সংকট। বইমেলা পাঠক তৈরির মাধ্যমে সেই সংকট দূর করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কি?
কলিন: প্রকাশকদের আমি মনে করি লেখকদের অভিভাবক। বর্তমান যুগে একটি বইকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয়তা ও বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমের দ্রুততর উন্নতির ফলে অনেকে প্রকাশনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লেখকদের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে প্রকাশকদের। মানসম্মত লেখা প্রকাশ, ভালো লেখার প্রচার, পাঠক তৈরিতে সাহায্য করে বলে আমি মনে করি। আর এই গুরু দায়িত্ব বর্তায় প্রকাশকদের উপর।

কোন কোন ব্যাপারে মনঃক্ষুন্নতা আছে আপনার?
কলিন : আমরা সবাই আসলে অনেক ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। ব্যস্ততা সভ্যতার একটি অভিশাপ। অতিরিক্ত ব্যস্ততা লেখকের জন্য যেমন ক্ষতির কারণ তেমনি পাঠকের জন্যও। একজন লেখককে বিবিধ জ্ঞান অর্জন করে তারপর লিখতে হয়। পাঠকের রুচির উন্নতির জন্যও পাঠে মনোযোগী হতে হয়। কিন্তু সেই নির্মল অবসরটুকু যেন আমরা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি।

লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
কলিন: সুনির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যত পরিকল্পনা নেই। তবে নিয়মিত কবিতা লিখে যেতে চাই। বড় পরিসরে ফিকশন লেখার ব্যাপারেও আগ্রহ আছে। ছোট গল্প লেখার মাধ্যমে নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছি। আসলে বড় পরিসরের লেখার জন্য আরো সময় দরকার। দেখা যাক, কী হয়!

এমএস/জেইউ


oranjee