ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ |

 
 
 
 

আজ আমজাদ হোসেনের জন্মদিন

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২১

ফাইল ছবি

স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার, অভিনয়শিল্পী আমজাদ হোসেনের আজ জন্মদিন।

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তাঁর ব্যাপক খ্যাতি থাকলেও একাধারে তিনি লেখক, গীতিকার, অভিনেতা, প্রযোজক, উপস্থাপক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৪২ সালের এই দিনে তিনি জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন আমজাদ হোসেন। লেখালেখির মাধ্যমেই তাঁর সৃজনশীল জীবন শুরু। ছড়া দিয়ে মূলত সাহিত্যের অঙ্গনে প্রবেশ। আমজাদ হোসেনের লেখা প্রথম কবিতা ছাপা হয় ‘দেশ’ পত্রিকায়। ছোটদের জন্যও তিনি লিখেছেন বহু গল্প, ছড়া এবং উপন্যাস।

১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে আমজাদ হোসেনের। পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৬৭ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুন নিয়ে খেলা’ মুক্তি পায়। পরে তিনি নয়নমনি (১৯৭৬), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), ভাত দে (১৯৮৪) দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। 'গোলাপী এখন ট্রেনে' ও 'ভাত দে' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পরে অবশ্য শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক, পরিচালক, সংলাপ রচয়িতা, শ্রেষ্ঠ গীতিকার এবং শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে একাধিকবার এই পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর লেখা চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র 'গোলাপী এখন ট্রেনে', 'সুন্দরী' ছাড়াও ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘কসাই’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘ধ্রুপদী এখন ট্রেনে’, ‘দ্বিধাদ্বন্দ্বের ভালোবাসা’, ‘আমি এবং কয়েকটি পোস্টার’, ‘রক্তের ডালপালা’, ‘ফুল বাতাসী’, ‘রাম রহিম’, ‘আগুনে অলঙ্কার’, ‘ঝরা ফুল’, ‘শেষ রজনী’, ‘ মাধবীর মধাব’, ‘মাধবী ও হিমানী’, ‘মাধবী সংবাদ’, ‘মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস’, ‘যুদ্ধে যাবো’, ‘অবেলায় অসময়’, ‘উত্তরকাল’, ‘ যুদ্ধযাত্রার রাত্রি’।

তাঁর লেখা জীবনীভিত্তিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘মওলানা ভাসানী: জীবন ও রাজনীতি’, ‘নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু: জীবন ও রাজনীতি’, ‘মানবেন্দ্রনাথ রায়: জীবন ও রাজনীতি’, ‘ শ্রী হেমচন্দ্র চক্রবর্তী’ এবং ‘ইতিহাস’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও তাঁর কিশোর উপন্যাস, গল্পগ্রন্থ, রচনাসমগ্র, মুক্তিযুদ্ধের রচনাসমগ্র প্রকাশিত হয়েছে।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান 'একুশে পদক' ও 'স্বাধীনতা পুরস্কার'-এ ভূষিত করে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার 'অগ্রণী শিশুসাহিত্য পুরস্কার' ও ২০০৪ সালে 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' লাভ করেন।

এএইচ/জেইউ 


oranjee