ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ |

 
 
 
 

কবি আল মাহমুদের ৮৫তম জন্মদিন আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২১

ফাইল ছবি

‘আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে/ হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে (নোলক)’ কিংবা ‘বধূবরণের নামে দাঁড়িয়েছে মহামাতৃকুল/গাঙের ঢেউয়ের মতো বলো কন্যা কবুল কবুল (সোনালি কাবিন )’ এবং ‘আম্মা বলেন, পড় রে সোনা/ আব্বা বলেন, মন দে/ পাঠে আমার মন বসে না/কাঁঠালচাঁপার গন্ধে’-এমন অগণিত কালজয়ী কবিতার স্রষ্টা, আবহমান বাংলা ও বাঙালি ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রূপকার, দেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের ৮৫তম জন্মদিন আজ।

১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, আত্মজীবনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন বরেণ্য এই কবি।

কবি আল মাহমুদের বর্ণমালার পাঠ শুরু হয় দাদি বেগম হাসিনা বানু মীরের কাছে। ভাষা আন্দোলনের সময় নিয়াজ মোহাম্মদ হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রা‏হ্মণবাড়ীয়ায় ভাষা আন্দোলন কমিটির লিফলেটে তাঁর কবিতা ছাপা হলে পুলিশ তাঁকে খুঁজতে থাকে। সে সময় ভাষার মিছিলে গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে আল মাহমুদের কবিতা গান হিসেবে গাওয়া হতো।

মূলত লেখালেখির জন্যই তিনি ঢাকায় আসেন ১৯৫৪ সালে। চাকরি নেন দৈনিক মিল্লাতে। ১৯৫৫ সালে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় আল মাহমুদের কবিতা ছাপা হলে বাংলা সাহিত্যে সাড়া পড়ে যায়। ১৯৬৩ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন প্রুফ রিডার হিসেবে। সে বছর বন্ধুজন কাইয়ুম চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, হাশেম খান, রফিক আজাদের সহায়তায় ‘কপোতাক্ষ’ থেকে আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তরে’ প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের জন্য সবচেয়ে কম বয়সে ১৯৬৮ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭২ সালে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বিশ্বাসীদের মুখপত্র এবং সরকারবিরোধী একমাত্র রেডিক্যাল পত্রিকা ‘গণকণ্ঠ’ বের হলে তিনি এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তাঁর লেখা বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সোনালি কাবিন’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। ১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে শিল্পকলা একাডেমীর সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। এ সময় তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশিত হয়।

১৯৮৪ সালে কলকাতা থেকে কবিতার জন্য কাফেলা সাহিত্য পুরস্কার এবং ছোটগল্পের জন্য বাংলাদেশে হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৮৬ সালে কবিতায় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক পান তিনি।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশের বেশি, উপন্যাস বিশটি এবং গল্পগ্রন্থ দশটির মতো। এছাড়াও তিনি শিশুসাহিত্য, সম্পাদনা এবং প্রবন্ধের বইও লিখেছেন।

আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘সোনালী কাবিন’, ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘একচক্ষু হরিণ’, ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’, ‘আমি দূরগামী’, ‘দ্বিতীয় ভাঙন’, ‘উড়ালকাব্য’ ইত্যাদি। ‘কাবিলের বোন’, ‘উপমহাদেশ’, ‘ডাহুকি’, ‘আগুনের মেয়ে’, ‘চতুরঙ্গ’ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কাবিলের বোন’সহ বেশকিছু গল্পগ্রন্থও রচনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ তাঁর আত্মজীবনী গ্রন্থ।

সৃজনশীল সাহিত্য রচনার জন্য অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আল মাহমুদ। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ছাড়াও, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, কলকাতার ভানু সিংহ সম্মাননা উল্লেখযোগ্য।

কবি আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মগবাজারে পুত্রের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এএইচ/জেইউ 


oranjee