ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১ |

 
 
 
 

হুমায়ুন ফরীদির আজ জন্মদিন

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৯, ২০২১

ফাইল ছবি

বহুমাত্রিক অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির আজ জন্মদিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে তিনি জন্মেছিলেন ঢাকার নারিন্দায়।

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র-সবখানেই সমানতালে তিন দশক ধরে দাপট ছিল এই অভিনেতার। ২০১২ সালে ফাল্গুনের প্রথম দিনে (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি চলে যান চির বিদায় নিয়ে।

১৯৭০ সালে তিনি স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈব রসায়ন বিভাগে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্থগিত হয়ে যায় পড়াশোনা। স্বাধীনতার পর অর্থনীতি বিষয়ে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক সম্মান পরীক্ষায় পাস করেন। এমন ফল নিয়ে নিশ্চিন্ত পেশা হিসেবে বেছে নিতে পারতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন অভিনয়কে যেখানে অনিশ্চয়তা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

হুমায়ুন ফরীদির অভিনয় জীবন শুরু ছাত্রজীবনে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘চাঁনমিয়ার নেগেটিভ পজেটিভ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘সংশপ্তক’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সমুদ্রে গাঙচিল’,‌ ‘তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘বিষকাঁটা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘ভবের হাট’ প্রভৃতি।

তার প্রথম মঞ্চনাটক কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটকে, ১৯৬৪ সালে। মঞ্চে প্রথম নির্দেশনা দেন স্কুলজীবনে, নাম ‘ভূত’। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক- ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীর্ত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ প্রভৃতি। টিভি নাটক অথবা মঞ্চে সেলিম আল দীন এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু জুটির বাইরে হুমায়ুন ফরীদির সর্বাধিক সংখ্যক এবং সর্বাধিক সফল কাজ ছিল হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে। ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকে হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত চরিত্র কানকাটা রমজানের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই।

হুমায়ুন ফরীদির প্রথম চলচ্চিত্র অভিনয় তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। প্রথম বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘সন্ত্রাস’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছবি হচ্ছে ‘ভণ্ড’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামলছায়া’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘বিশ্বপ্রেমিক’ ও ‘পালাবি কোথায়’ যার বেশিরভাগই সুপারহিট। বাংলা চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে তিনি যোগ করেছিলেন নতুন মাত্রা। ‘সন্ত্রাস’ ছবির মাধ্যমে খলনায়ক চরিত্র শুরু হয় তার। তিনি ‘মাতৃত্ব’ ছবির জন্য সেরা অভিনেতা শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ২০০৪ সালে।

হুমায়ুন ফরীদি অভিনীত শেষ ছবি ‘এক জবানের জমিদার, হেরে গেলেন এবার’। ছবিটি ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন উত্তম আকাশ।

বুদ্ধিদীপ্ত ও রোমান্টিক এ মানুষটি ব্যক্তিগত জীবনে প্রথমে বেলি ফুলের মালা দিয়ে ফরিদপুরের মেয়ে মিনুকে বিয়ে করেন। তখন এ বিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেই ঘরে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, নাম দেবযানি। পরে তিনি ঘর বাঁধেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে কিন্তু ২০০৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

এএইচ/জেইউ 


oranjee