ঢাকা, শনিবার, ৬ মার্চ ২০২১ |

 
 
 
 

আজ মমতাজউদদীন আহমদের জন্মদিন

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

ফাইল ছবি

আজ প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষা সৈনিক মমতাজউদদীন আহমদের জন্মদিন। তিনি স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত। তিনি নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদক।

১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মমতাজউদদীন আহমেদ। দেশ বিভাগের পর তাঁর পরিবার বাংলাদেশে চলে আসে। তাঁর বাবার নাম কলিমুদ্দিন আহমদ ও মা সখিনা বেগম।

মমতাজউদদীনের শিক্ষা জীবনের সূচনা মালদহ জেলার আইহো গ্রামে। সেখানকার জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যস্ত লেখাপড়া করার পর ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সর্বোচ্চ ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করার পর শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন মমতাজউদদীন আহমদ। ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন ৩২ বছরের বেশি সময় ধরে।

তিনি দীর্ঘদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

তিনি ১৯৭৬-'৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৭-'৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

একজন জনপ্রিয় শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মমতাজউদদীন। পাশপাশি অভিনয় করেছেন বহু নাটকে। মঞ্চ, টেলিভিশন, রেডিও, এমনকি বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন মমতাজদ্দীন আহমদ। টেলিভিশন নাটকে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।

তাঁর লেখা নাটক ‘কি চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

নাটকের বাইরে বেশ কিছু উপন্যাস, গল্প, শিশু সাহিত্য ও গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তাঁর রচিত বেশ কিছু নাটক বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।

মমতাজউদদীন আহমদের লেখা জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে বিবাহ, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, বর্ণচোরা, এই সেই কণ্ঠস্বর, সাতঘাটের কানাকড়ি, রাজা অনুস্বরের পালা, বকুলপুরের স্বাধীনতা, সুখী মানুষ, রাজার পালা, সেয়ানে সেয়ানে, কেস, ভোটরঙ্গ, উল্টো পুরান, ভেবে দেখা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তাঁর লেখা অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত, বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত, প্রসঙ্গ বাংলাদেশ, প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু, আমার ভেতরে আমি, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, জগতের যত মহাকাব্য, মহানামা কাব্যের গদ্য রূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, সজল তোমার ঠিকানা (উপন্যাস), এক যে জোড়া, এক যে মধুমতি (উপন্যাস), অন্ধকার নয় আলোর দিকে, চার্লি চ্যাপেলিন-ভাঁড় নয় ভব ঘুরে নয়। ২০১৯ সালের ১ জুন বিশ্বসাহিত্য ভবন থেকে প্রকাশিত হয় তার সর্বশেষ বই—‘আমার প্রিয় শেক্সপিয়ার’।

নাটক রচনার জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ সম্মাননা, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০১৯ সালের ২ জুন রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মমতাজদ্দীন আহমদ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

এএইচ/জেইউ 

 


oranjee