ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ |

 
 
 
 

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২১

ফাইল ছবি

উপমহাদেশের সঙ্গীতজগতের কিংবদন্তি ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭২ সালের আজকের এই দিনে ভারতের মাইহারে মারা যান রাগসংগীতের স্রষ্টা এই সঙ্গীতজ্ঞ। তিনিই প্রথম বাঙালি, যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে উপমহাদেশের রাগসঙ্গীতকে পরিচিত করান। এই সুরসাধককে ব্রিটিশ সরকার ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে ১৮৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী ও সরোদবিশারদ। তার বাবা সংগীতজ্ঞ সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন একজন সঙ্গীতগুরু।

ছোটবেলায় অগ্রজ ফকির আফতাবউদ্দিন খাঁর কাছে সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় আলাউদ্দিন খাঁর। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এক যাত্রাদলে যোগ দেন তিনি। সুরের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান গ্রামে গ্রামে। ওই সময় তিনি জারি-সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তন, পাঁচালি প্রভৃতি গানের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে কলকাতায় গিয়ে প্রখ্যাত সঙ্গীত সাধক গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য ওরফে নুলো গোপালের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বাঁশি, পিকলু, সেতার, ম্যাডোলিন, বেঞ্জো ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন সঙ্গীত পরিচালক অমৃত লাল দত্ত ওরফে হাবু দত্তের কাছে। সেই সঙ্গে তিনি লবো সাহেব নামে এক গোয়ানিজ ব্যান্ডমাস্টারের কাছে পাশ্চাত্য রীতিতে এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ অমর দাসের কাছে দেশীয় পদ্ধতিতে বেহালা শেখেন। এ ছাড়া হাজারী ওস্তাদের কাছে শেখেন মৃদঙ্গ ও তবলা। এভাবে তিনি সর্ববাদ্যবিশারদ হয়ে ওঠেন।

ভারত সরকার ১৯৫২ সালে তাঁকে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমি সম্মান’, ১৯৭১ সালে ‘পদ্মভূষণ’, ১৯৬১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশিকোত্তম’ এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শিবপুরে রয়েছে তাঁর নিজ হাতে গড়া একটি মসজিদ, এলাকাবাসীর উদ্যোগে গড়ে তোলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নবীনগরে আলাউদ্দিন খাঁ স্মৃতি সংসদ, শিবপুর আলাউদ্দিন খাঁ মহাবিদ্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

এএইচ


oranjee