ঢাকা, বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১ |

 
 
 
 

হুমায়ূন আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০২১

ফাইল ছবি

জননন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাংলার কিংবদন্তি এই লেখকের। ওই বছরের ২৩ জুলাই তাঁর মরদেহ আনা হয় দেশে। পরদিন গাজীপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয় তাঁকে।

লেখালেখি আর সিনেমা-নাটকের মাধ্যমে সব বয়সী মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই লেখক-নির্মাতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বছরের মতো এবারও আনুষ্ঠানিক তেমন কোনো আয়োজন থাকছে না। তবে এবারও পরিবারের সদস্যরা নুহাশপল্লীতে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ ১৯৭২ সালে প্রকাশের পরপরই তিনি খ্যাতি লাভ করেন। এরপর একের পর এক উপন্যাস লিখে পেয়েছেন অতুলনীয় জনপ্রিয়তা। তাঁর একটি নতুন বই আর সেই বইয়ে একটি অটোগ্রাফের জন্য বইমেলায় পাঠক-ভক্তদের দীর্ঘ লাইন স্মরণীয় হয়ে আছে।

এ দেশে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা এই লেখক দুই শতাধিক ফিকশন ও নন-ফিকশন বই লিখেছেন। বাংলাদেশে সায়েন্স ফিকশনের সূচনা তাঁর হাত ধরেই। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘বাদশা নামদার’, ‘কবি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘লীলাবতী’, ‘গৌরীপুর জংশন’, ‘নৃপতি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নক্ষত্রের রাত’ ইত্যাদি।

হিমু, মিসির আলীর মতো চরিত্র সৃষ্টি করে লাখো-কোটি পাঠক-ভক্ত তৈরি করেছেন এই কথার জাদুকর। হুমায়ূন আহমেদ যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন। টিভি নাট্যকার হিসেবেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। তাঁর লেখা নাটক যখন বিটিভিতে প্রচারিত হতো তখন রাস্তা-ঘাটে জনসমাগম কমে যেত। হাসির নাটক ‘বহুব্রীহি’ এবং ঐতিহাসিক নাটক ‘অয়োময়’ ও জীবনঘনিষ্ঠ নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ এই দেশের টিভি নাটকের ইতিহাসে অনন্য সংযোজন।

পেশায় তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের অধ্যাপক। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। নিজের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ প্রভৃতি। ‘আগুনের পরশমণি’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

এছাড়াও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

এএইচ/জেইউ


oranjee