ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য আর নেই

গ্লোবালটিভিবিডি ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

কালজয়ী বাংলা ছবি ‘মেমসাহেব’সহ আরো বহু উপন্যাসের নন্দিত লেখক নিমাই ভট্টাচার্য কলকাতার টালিগঞ্জে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।

১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মাগুরা জেলার শরশুনা গ্রামে জন্ম নিমাই ভট্টাচার্যের। দেশ ভাগের সময় তাঁর পরিবার এ দেশ ছেড়ে চলে যায়। ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পড়ার সময়ই সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালে ‘লোকসেবক’ পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু তাঁর।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ নাগাদ তাঁর টালিগঞ্জের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত এই প্রখ্যাত সাহিত্যিক। তিন পুত্র ও দুই কন্যাকে রেখে গেছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে আগেই মারা গেছেন।

কলকাতায় পেশাগত জীবন শুরু হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর দিল্লিতে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। ‘বিশ্বামিত্র’ নামে পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা করতেন। পেশার সূত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী, রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতা ছিল। ইন্দিরা গান্ধীর সফরসঙ্গী হয়ে বহু দেশে ঘুরেছেন তিনি। প্রথমবার রেলমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্যাসেঞ্জার অ্যামেনিটিস কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। এই পেশার দৌলতে সে সময়কার রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর।

১৯৬৪ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘রাজধানীর নেপথ্যে’ প্রকাশিত হয়। তারপর পুরোপুরি লেখালেখিকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮২ সালে কলকাতায় ফিরে যান তিনি।

‘মেমসাহেব’, ‘এডিসি’, ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’, ‘গোধূলিয়া’র মতো একের পর এক উপন্যাস এক সময়ে উপমহাদেশের বহু মানুষের পড়ার খিদেকে মিটিয়েছিল। ১৫০টিরও বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। ১৯৭২ সালে তাঁর উপন্যাস থেকেই তৈরি হয় হয় পিনাকী মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘মেমসাহেব’। উত্তমকুমার-অপর্ণা সেন জুটি অভিনীত সেই ছবি আজও বাংলা রোম্যান্টিক সিনেমার মাইলস্টোন।

এএইচ/জেইউ


oranjee