ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ |

 
 
 
 

হুমায়ুন ফরীদির নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

গ্লোবালটিভিবিডি ১২:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

ফাইল ছবি

চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের স্বনামধন্য অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির আজ নবম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চিরবিদায় নেন তিনি।

কিংবদন্তি এ অভিনেতার মৃত্যুদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্যাঙ্গনের অনেকেই তাঁকে শ্র্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন।

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন ফরীদি। তাঁর বাবার নাম এটিএম নুরুল ইসলাম, মায়ের নাম বেগম ফরীদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে ফরীদি ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ১৯৭০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এবং একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হন। পরের বছর ১৯৭১ সালে তিনি অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে।

স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন হুমায়ুন ফরীদি। সেখানেই তাঁর অভিনয় প্রতিভার বিকাশ ঘটে। সেলিম আল দীনের কাছে নাট্যতত্ত্বে দীক্ষা নেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই সদস্যপদ পান ঢাকা থিয়েটারের। এই নাট্যদল থেকেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে তাঁর অভিনয়ের রঙগুলো। তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নাট্য সম্পাদক।

সেলিম আল দ্বীনের ‘শকুন্তলা’ নাটকের তক্ষক চরিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় তাঁর। ১৯৮২ সালে তিনি ‘নীল নকশার সন্ধানে’ নাটকে অভিনয় করেন। এটি ছিল তাঁর প্রথম টেলিভিশন নাটক। 

ঢাকা থিয়েটারের শকুন্তলা, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, কীর্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল’র মতো মঞ্চনাটকে অভিনয় করে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন ফরীদি। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সদস্য হিসেবে গ্রাম থিয়েটারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।

এরপর অভিনয় করেছেন ভাঙ্গনের শব্দ শুনি, সংশপ্তক, দুই ভাই, শীতের পাখি, কোথাও কেউ নেই, সাত আসমানের সিঁড়ি, একদিন হঠাৎ, অযাত্রা, পাথর সময়, দুই ভাই, তিনি একজন, চন্দ্রগ্রস্ত, কাছের মানুষ, মোহনা, শৃঙ্খল, প্রিয়জন নিবাস’র মতো দর্শকপ্রিয় নাটকে।

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘নীল নকশার সন্ধ্যানে’ ও ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ নাটকে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’- এ কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান।

তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ সিনেমার মধ্য দিয়ে হুমায়ুন ফরীদির বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। নব্বই দশকে বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘সন্ত্রাস’, ‘দিনমজুর’, ‘বীরপুরুষ’ ও ‘লড়াকু’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপরই দেশীয় চলচ্চিত্রে খল-নায়কের চরিত্রে তিনি নন্দিত হন।

শহীদুল ইসলাম খোকন তাঁর ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘অপহরণ’, ‘দুঃসাহস’সহ ২৮টি সিনেমার মধ্যে ২৫টিতেই রাখেন ফরীদিকে। এছাড়া হুমায়ুন ফরীদি ‘দহন’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘দূরত্ব’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘অধিকার চাই’, ‘ত্যাগ’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মাতৃত্ব’ ও ‘আহা’র মতো অগণিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

আশির দশকের শুরুর দিকে মিনুকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করেছিলেন ফরীদি। ২০০৮ সালে সেই সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ ঘটে। 

/জেইউ 

 


oranjee