ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১ |

 
 
 
 

শোক ও শ্রদ্ধায় আলী যাকেরকে চিরবিদায়

গ্লোবালটিভিবিডি ৩:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

ছবি : সংগৃহীত

চিরবিদায়ের কালে সর্বজনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একাত্তরের শব্দ সৈনিক আলী যাকের। তাকে জানানো হয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। বহুমাত্রিক এই ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে শোকে স্তব্ধ সাংস্কৃতিক অঙ্গন। আলী যাকেরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাদ আছর নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে গুনী এই ব্যক্তিত্বকে।

সংস্কৃতি অঙ্গনের আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরবিদায়। না ফেরার দেশে চলে গেলেন নাট্যজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলী যাকের। মঞ্চসহ অভিনয়ের সকল মাধ্যমে দাপিয়ে বেড়ানো সদা হাস্যোজ্জ্বল এই গুনী অভিনেতা কয়েক বছর ধরেই ভুগছিলেন দূরারোগ্য ব্যধি ক্যান্সারে।

শারীরিক জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে করোনা টেস্ট করা হলে পজিটিভ ফল আসে। সেখানেই শুক্রবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের এই শব্দ সৈনিক। আলী যাকেরের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা সাংস্কৃতিক অঙ্গন।

সকাল এগারোটায় তাঁর মরদেহ নেয়া হয় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে। যাঁদের হাত ধরে গড়ে ওঠেছে এই প্রতিষ্ঠান আলী যাকের তাদেরই একজন। সেখানে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এরপর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সমাজের নানা শ্রেনী-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে জানানো হয় ফুলেল শ্রদ্ধা।

এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আলী যাকেরের দীর্ঘদিনের মঞ্চ সহযোদ্ধারা। আছরের নামাজের পর জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে আলী যাকেরকে।

এর আগে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলী যাকের।

১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর জন্ম নেয়া আলী যাকের কিশোর বয়সেও কখনো ভাবেননি মঞ্চে এভাবে দাঁপিয়ে বেড়াবেন প্রিয় সংলাপ আওড়ে। নাট্যাঙ্গনেই গড়ে উঠবে তার আসল পরিচয়। তবে তরুন বয়সে উৎপলদত্ত, অজিতেশ বন্দোপাধ্যায় বা সম্ভু মিত্রের অভিনয়ে মুগ্ধ হতেন তিনি। মনের কোনায় হয়তো কোথায়ও দানাও বাঁধতে শুরু করেছিলো অভিনয়ের ইচ্ছেও।

যুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতাতেই প্রিয় বন্ধু নাট্যজন মামুনুর রশীদের কাছে অভিনয়ের ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন আলী যাকের। স্বাধীন বাংলাদেশে এসে সেই বন্ধুর অনুরোধেই আরণ্যকের দলের হয়ে ১৯৭২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে প্রথম মঞ্চে অভিনয় শুরু। আরণ্যক দল দিয়ে শুরুটা হলেও পরে তিনি আতাউর রহমান এবং জিয়া হায়দারের অনুরোধেই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন অভিনয় করেন বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ নাটকে। ১৯৭৩ সালে বাদল সরকারের বাকি ইতিহাস নাটকে প্রথম নির্দেশনা দেন। যা ছিলো দেশের প্রথম দর্শনীর বিনিময়ের নাটক।

তারপরে আর থামতে হয়নি আলী যাকেরকে। মঞ্চের পাশাপাশি টিভি নাটকেও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন এই অভিনেতা। আজ রবিবার, বহুব্রীহি, একদিন হঠাৎ, নীতু তোমাকে ভালোবাসি নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও। ঘরও বেধেছে নাট্যজন সারা যাকেরে সাথে। ছেলে মেয়েও অভিনয় জগতেরই মানুষ। অভিনয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ে কলাম লিখতেন আলী যাকের। দক্ষতা দেখিয়েছেন ফটোগ্রাফিতেও।

একই সাথে দেশীয় বিজ্ঞাপনশিল্পের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব তিনি। বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির কর্ণধার। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি এই গুনী পেয়েছে একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা।

এমএস


oranjee