ঢাকা, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০ | ২০ আষাঢ় ১৪২৭

 
 
 
 

আজ শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদির ৬৮তম জন্মদিন

গ্লোবালটিভিবিডি ১:০৭ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০

ফাইল ছবি

কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির অষ্টম জন্মবার্ষিকী আজ। ২০১২ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি ৫৯ বছরে বসন্তের প্রথম সকালে চিরবিদায় নেন তিনি। ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ফরীদি।

১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্ম নেওয়া হুমায়ূন ফরীদি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তুমুল খ্যাতি অর্জন করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ফরীদি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিশিষ্ট নাট্যকার সেলিম আল-দীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি জনপ্রিয় মঞ্চ, টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে আসন গড়ে নেন। ১৯৬৪ সালে মাত্র ‪‎বারো‬‬‬‬ বছর বয়সে কিশোরগঞ্জের মহল্লার নাটক ‘এক কন্যার জনক ‘ প্রথম অভিনয়ে করেন।

১৯৭৬ সালে নাট্যজন সেলিম আল দীন -এর উদ্যোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় নাট্যোৎসব। ফরীদি  ছিলেন এর অন্যতম প্রধান সংগঠক। এই উৎসবে ফরীদির নিজের রচনায় এবং নির্দেশনায় মঞস্থ হয় ‘ আত্মস্থ ও হিরন্ময়ীদের বৃত্তান্ত ‘ নামে একটি নাটক,, নাটকটি সেরা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঢাকা থিয়েটারে ‎শকুন্তলা‬‬‬‬, ফণীমনসা, কীত্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, ভূতের মতো তুমুল জনপ্রিয় মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে হয়ে উঠেন ঢাকা থিয়েটারের প্রাণ ভোমরা। বনে যান সেসময়ের মঞ্চ নাটকের অদ্বিতীয় ব্যক্তি। নাট্যপাড়ায় হুমায়ূন তখন শক্তিমানদের একজন।

আতিকুল ইসলাম চৌধুরীর ‘নিখোঁজ সংবাদ ‘ দিয়ে তাঁর টিভি পর্দায় আগমন। তবে ১৯৮৩ সালে সেলিম আল দীনের রচনা এবং নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর পরিচালনায় সেই সময়কার তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় প্যাকেজ নাটক ” ভাঙনের শব্দ শুনি ” তে টুপি দাড়িওয়ালা গ্রামের মিচকা শয়তান ” সেরাজ তালুকদারের যে চারিত্রিক রুপ তিনি দিয়েছিলেন আর সেই নাটকে তাঁর সেই অমোঘ ডায়লগ ” আরে আমি তো পানি কিনি, পানি, দুধ দিয়া খাইবা না খালি খাইবা বাজান”, মানুষের মুখে মুখে রটে বেরাতো।

এরপর একে একে করেছেন হঠাৎ একদিন, দূরবীন দিয়ে দেখুন, কোথায় কেউ নেই, বকুলপুর কত দূর, ভবের হাট, এরকম আরো অসংখ্য অগনিত তুমুল দর্শকপ্রিয় টিভি নাটক।

বাঙালির মধ্যবিত্ত সামাজিক জীবনধারাকে তিনি আনন্দিত করে তুলেছিলেন। ফরীদির নাটক মানেই বিটিভির সাদাকালো পর্দায় পুরো বাঙালির চোখ আটকে যাওয়া। এতো প্রাণনবন্ত, এতো জীবন্ত, যেন আমাদের চারপাশের মানুষগুলোই জীবন্ত হয়ে যেতো ফরীদির অভিনয়ে!! আর “সংশপ্তক ‘ নাটকে হুমায়ূনের ‘কান কাটা রমজান ‘ চরিত্রের অভিনয় যারা দেখেছেন, তারা ফরীদিকে স্থান দিয়েছেন হৃদয়ের একেবারে মাঝখানে।

নব্বই দশকে এসে তিনি নাম লিখিয়েছিলেন ‘বাণিজ্যিক ধারার বাংলা ছবিতে।  ‘হুলিয়া ‘ দিয়ে প্রথম সিনেমাতে অভিনয়। ফরীদি  অভিনয়ে এতোটাই অনবদ্য ছিলেন যে একসময় নায়কের চেয়ে বাংলা সিনেমা প্রেমী জাতির কাছে ভিলেন হুমায়ূন ফরীদি বেশি প্রিয় হয়ে ওঠেন। হলে ওনার সিনেমা মুক্তি মানেই ওপচে পরা ভীড়!সেলুলয়েড়ের বিশাল পর্দায় ফরীদির উপস্থিতি মানে দর্শকদের মুহুর্মুহু তালি। একটু একটু করে বাংলা সিনেমায় ভিলেনের সংজ্ঞাটাও যেন পরিবর্তন হতে থাকে। দহন, আনন্দ অশ্রু, বিচার হবে, মায়ের অধিকার, একাত্তরের যীশু, ভন্ড, পালাবি কোথায়, জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া, হিংসা, বিশ্বপ্রেমিক, অপহরণ-এর মতো জনপ্রিয় এবং একই সাথে বাণিজ্যিকভাবে সফল ২৫০টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

জাত অভিনেতা ছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। রক্তে মিশে ছিলো অভিনয়। বলা চলে, টানা তিন দশক ক্যারিশম্যাটিক,ম্যাজিকাল অভিনয়ে বুঁদ করে রেখেছিলেন তিনি পুরো অভিনয় প্রিয় বাঙালি জাতিকে।

এএইচ


oranjee