ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ |

 
 
 
 

ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অনুমোদন চেয়েছে গ্লোব বায়োটেক

অনুমোদন প্রাপ্তির পর এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল শুরুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন

গ্লোবালটিভিবিডি ২:১৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

ফাইল ছবি

দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্সের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদে (বিএমআরসি) আবেদন জমা দিয়েছে সিআরও (ক্লিনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন) বাংলাদেশ।

আজ রবিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে করোনা ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’র প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত বিএমআরসিতে যান সংশ্লিষ্টরা। তারা বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করার অনুমতি চেয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার এই আবেদনটি বিএম‌আরসির একজন সহকারী পরিচালক গ্রহণ করেন। এ সময় করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনকারী দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যালস গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের বঙ্গভ্যাক্সের প্রটোকল তৈরীর কাজে নিয়োজিত সিআরও লিমিটেড (তৃতীয় পক্ষ প্রতিষ্ঠান)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো হেলাল উদ্দিন, আইইডিসিআর পরিচালক ও বঙ্গভ্যাক্স এর ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল তৈরীর কাজে নিয়োজিত কো-পিআই (প্রিন্সপাল ইনভেস্টিগেটর) অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন, পিআই (প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর) অধ্যাপক মামুন আল মাহতাব, বঙ্গভ্যাক্স এর উদ্ভাবনকারী গবেষক ডা. কাকন নাগসহ প্রটোকল তৈরীর কাজে নিয়োজিত অন্য গবেষক এবং গ্লোব বায়োটেকের চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। 

বিএমআরসিতে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন চেয়ে করা আবেদন বিএমআরসির ১৭ সদস্যের বোর্ড পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিবে। এই অনুমোদন সাপেক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে বঙ্গভ্যাক্স ভ্যাকসিনটির মানব দেহে ট্রায়াল শুরু হবে। 

গ্লোব বায়োটেকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিন ধাপে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য সময় লাগতে পারে ৫ মাসের মতো। সব ঠিকঠাক থাকলে জুন নাগাদ টিকা বাজারে আনার পরিকল্পনা গ্লোব বায়োটেকের। 

গ্লোব বায়োটেকের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ বলেন, গ্লোব বায়োটেকের পক্ষে তাদের সিআরও এ প্রটোকল জমা দিয়েছে। বিএমআরসির অনুমোদন পেলেই হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করা হবে। বাংলাদেশে কোনও ভ্যাকসিনের ফেইজ-১ এর ট্রায়াল হবে, এটা আমাদের জন্য মাইলফলক। 

জানা গেছে, অনুমোদন পাওয়ার এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ট্রায়ালে যেতে সকল ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে বঙ্গভ্যাক্সের সিআরও। 

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডকে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন 'বঙ্গভ্যাক্স' উৎপাদনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। 

বিশ্বে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে থাকা গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি যার ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) 'কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সারা বিশ্বে যেসব ভ্যাকসিন তৈরির কাজ হচ্ছে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে আছে এমন ৪২টি ভ্যাকসিনর একটি তালিকা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগের অবস্থায় (প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) থাকা ১৫৬টি ভ্যাকসিনের আরেকটি তালিকা রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। ওই তালিকায় বাংলাদেশের গ্লোব বায়োটেকের ৩টি ভ্যাকসিনের নাম রয়েছে যেগুলো হলো ডি৬১৪ ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ, ডিএনএ প্লাজমিড ও এডিনোভাইরাস টাইপ-৫ ভেক্টর। 

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ জুলাই তেজগাঁওয়ে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গ্লোব বায়োটেকের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টার ঘোষণা দেয়া হয়। পরে ১০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে তাদের ওই সম্ভাব্য ভ্যাকসিন ‘কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ’ প্রমাণিত হয়েছে। 

জেইউ 

 


oranjee