ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২০ |

 
 
 
 

প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান উত্তর কোরিয়ায়, জরুরি অবস্থা জারি

বিশ্বজুড়ে করোনার মহামারী শুরু হওয়ার পর জানুয়ারিতেই পরমাণু শক্তিধর দেশ উত্তর কোরিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিলো। রবিবার সীমান্তবর্তী শহর কেসাংয়ে জরুরী ভিত্তিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে নাজেহাল গোটা বিশ্ব। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী শাসক কিম জং উন এতদিন গর্বিতই ছিলেন। কারণ উত্তর কোরিয়া দাবি করেছিল, দেশে একজনও কোভিড পজিটিভ রোগীর সন্ধান মেলেনি এবং করোনা মোকাবিলায় সেদেশ গোটা বিশ্বের সামনে নজির তৈরি করেছে। কিন্তু সে কথা আর টিকলো না। উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর কেসাংয়ে জরুরি ভিত্তিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে রবিবার। কারণ, সেখানে করোনাভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে এমন এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, উত্তর কোরিয়ার শাসক-নেতা কিম জং উন শনিবার জরুরি পলিটব্যুরো বৈঠক করেছেন। করোনা সংক্রমণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি ও জরুরী অবস্থা বাস্তবায়ন নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে। কোভিড ১৯ ধরা পড়লে ওই ব্যক্তিই উত্তর কোরিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত প্রথম রোগী হিসেবে শনাক্ত হবেন। মহামারী রোধের জন্য দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাব রয়েছে।

জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন রোগী তিন বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়া চলে গিয়েছিলেন। তিনি ১৯ জুলাই ফিরে এসেছেন উত্তরে। দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কড়া নজরদারিতে থাকা সীমান্ত তিনি অবৈধভাবে পার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সীমান্ত পার হয়ে কারও যাওয়ার তথ্য নেই বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। করোনা উপসর্গ থাকায় ওই ব্যক্তিকে কোয়ারেনটিনে রাখা হয়েছে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (KCNA)-র তথ্য অনুসারে, আক্রান্ত ব্যক্তির পরিস্থিতি বিপজ্জনক বলে জানানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ওই করোনা রোগী থেকে বিপর্যয় হতে পারে বলে সরকারের আশঙ্কা। সরকারি গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, ভয়ংকর এই ভাইরাস দেশে ঢুকে পড়েছে। কেসাং শহর পুরোপুরি অবরুদ্ধ করতে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে করোনার মহামারী শুরু হওয়ার পর জানুয়ারিতেই পরমাণু শক্তিধর দেশ উত্তর কোরিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় দিনে ৪০ থেকে ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ অন্য দেশ থেকে আসা। আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের বিশ্লেষক গো মিয়ং হিউন বলেছেন, 'চিন থেকে উত্তর কোরিয়ায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে।' এর জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার উপর ভয়াবহ বদলার কথা ভাবছে কিম জং উন। সূত্রঃ এই সময়।

জেইউ


oranjee