ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

 
 
 
 

করোনাজয়ীদের নিয়েই কলসেন্টার!

গ্লোবালটিভিবিডি ৪:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন সন্দেহ হলেই সরাসরি ফোন করতে পারবেন বিশেষ এক কলসেন্টারে। সেই ফোন তুলবেন করোনাজয়ী একজন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কোভিড যোদ্ধা। ঠিকানা জেনে মোটরবাইক নিয়ে দ্রুত পৌঁছে যাবেন অসুস্থের বাড়িতে। রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা করবেন, ফোনে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে ওষুধও দেবেন। যদি হাসপাতালে তখনই ভর্তির প্রয়োজন হয় সেটারও চটজলদি ব্যবস্থা করবেন করোনাজয়ী ওই যোদ্ধারা। অ্যাম্বুলেন্স তখনই না পাওয়া গেলে কোভিড যোদ্ধার সঙ্গে থাকা বাইকই অ্যাম্বুলেন্সের কাজ করবে, পৌঁছে দেবে হাসপাতালে।

সম্প্রতি ভারতের কলকাতায় এমনই এক কল সেন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিন শিফটে ভাগ করে ২৪ ঘণ্টাই কল সেন্টারে ডিউটি করবেন করোনাজয়ীরা। রবিবার কলকাতার স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশাসক অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, “চালু হচ্ছে  মোট ১৬টি কলসেন্টার। দায়িত্বে থাকবেন করোনাজয়ীরা। ফোন পেলেই মোটরবাইক নিয়ে পৌঁছে যাবেন রোগীর বাড়িতে। প্রাথমিক চিকিৎসা, অন-কলের ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ দেয়া, ভর্তির ব্যবস্থা, সবটাই করবেন তাঁরা।”

যেহেতু ওই কোভিড যোদ্ধারা সুস্থ হয়ে ফিরেছেন তাই তাঁদের শরীরে মরণ ভাইরাস (Coronavirus) প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে আছে। বস্তুত এই কারণেই করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীর কাছে গেলে কোনও ঝুঁকি থাকবে না। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা বাইক নিয়ে গেলে ওই সন্দেহভাজন রোগীর থেকে নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই এমন পরিষেবায় কোভিড জয়ীদের নিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মোট ১৬টি কলসেন্টারে নিয়োগ শেষ হওয়ার আগে সেখানকার স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে সমস্ত কোভিড জয়ীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কারণ, ওই কোভিড যোদ্ধারাই শহরের করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজনদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং করবেন। প্রতি মাসে এই কোভিড যোদ্ধারা ১৫ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। জানা যায়, এখন পর্যন্ত কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার মানুষ করোনামুক্ত হয়ে সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরেছেন। মহানগরের এই করোনাজয়ীদের মধ্যে সমাজের নানা স্তরের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও রয়েছেন।

অতীন ঘোষের কথায়, “বিশিষ্ট করোনাজয়ীদের দিয়ে কোভিড মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রচার কর্মসূচি নেয়া হবে। আর আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অন্য করোনাজয়ীদের কোভিড হাসপাতালে, সেফ হোম, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে করোনা মোকাবিলায় নানা কাজে নিয়োগ করা হবে।”

তবে কথা হলো, কলসেন্টারে যে সমস্ত কোভিড যোদ্ধারা কাজ করবেন তাঁদের অপেক্ষাকৃত কমবয়সী এবং নিজস্ব মোটরবাইক থাকতেই হবে। সুত্রঃ সংবাদ প্রতিদিন।

জেইউ

 

 

oranjee